মাথায় লাল সবুজ টুপি। চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। হাতে হাতে নতুন বই। বইয়ের কাঁচা সুবাসে উদ্বেলিত খুদে শিক্ষার্থীরা। নতুন বই হাতে পেয়েই নেড়েচেড়ে দেখতে ব্যস্ত একেকজন। হঠাৎ কিছু চোখে পড়তেই পাশের সহপাঠীর সঙ্গে মুখ হাত দিয়ে হাসিতে লুটিয়ে পড়ছে কেউ কেউ। আবার অনেকে বইয়ের ঘ্রাণ শুঁকে দেখছে। নতুন বই বিতরণের মধ্য দিয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে মেতে উঠেছে দেশ।
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে পাঠ্যপুস্তক উৎসব ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে অংশ নেয়। পাশাপাশি সারা দেশেই পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালিত হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, ‘এই নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন করা। শিক্ষার গুণগত মানকে বিশ্বমানে পৌঁছানো। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক যুগে উন্নতমানের শিক্ষা জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা দিয়ে গড়ে তোলা, যারা বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।’ নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের আরও বেশি ত্যাগী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
বই ছাপানো নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে এবং অসম্ভব বলে চারদিকে সমালোচনা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটাকে অসম্ভব মনে করলেও এ দেশে তা সম্ভব হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই বই তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আর বই সংগ্রহ করতে বছরের অর্ধেক সময়ে চলে যায় না।
একদিকে চলছিল অতিথিদের বক্তব্য অন্যদিকে যাদের জন্য উৎসব তারা নেড়েচেড়ে দেখছিল নতুন বইখানা। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে হাসানে নতুন বই হাতে পাওয়া মাত্রই আনন্দ পাঠ সবার আগে পড়ে ফেলে। গল্পগুলো পড়তে ওর ভীষণ ভালো লাগে।
এ বছর ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ বই উৎসব হয়ে আসছে। গত ৯ বছরে এ পর্যন্ত তুলে দেওয়া হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই।
নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৯ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম ও নবম-দশম শ্রেণির জন্য দুটি সম্পূরক কৃষি শিক্ষা বই সব থানায় পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ বই ছাপা হয়েছে ১২ লাখ ৪২ হাজার ৬১টি।
২ কোটি ৬৬ লাখ ছেলে মেয়ে বিভিন্ন বৃত্তি পেয়ে থাকে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবার শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া পশ্চাৎপদ দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় এবং রোল মডেল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, ২০৪১ সালের আগেই এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। সেই উন্নত দেশকে নেতৃত্ব দেবে এই শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সচিব বলেন, ‘পরীক্ষাকে পরীক্ষার মতো দাও। পরীক্ষায় কোনোভাবেই আশা করবে না কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ তোমরা সামনে আসবে। সব অবৈধ সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিন থেকে পড়াশোনা করতে হবে’। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো অবৈধ উপায় অবলম্বন না করে সেদিকে নজর রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
উৎসবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাসিবুর রহমান।