নতুন বই বিতরণ: উৎসব নেই, তবু আনন্দ আছে চট্টগ্রামে

নতুন বই পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না
ছবি: প্রথম আলো

চিরচেনা সেই বই উৎসবের আয়োজন নেই। তারপরও নতুন বই পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে অনেকেই স্কুলে চলে এসেছিল নির্ধারিত সময়ের আগেই। সঙ্গে নিয়ে এসেছে মা-বাবাকেও। শিক্ষকদের কাছ থেকে বই পেয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে বসে পড়ে কেউ কেউ। বই খুলে কেউ দেখছিল ছবি, কেউ পড়াও শুরু করে দেয়।

আজ শনিবার ২০২২ সালের প্রথম দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নতুন বই বিতরণের এ চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্কুলে। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও বই উৎসব হচ্ছে না। আবার একসঙ্গে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বইও দেওয়া হচ্ছে না। ধাপে ধাপে প্রতিটি শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বই দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মূলত, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ভিড় এড়াতে এভাবে বই বিতরণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আজ সকাল থেকে ভিড় জমায় শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকেরাও। তবে ভেতরে শুধু ছাত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হয়। সকালের পালায় বই দেওয়া হয় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের। শ্রেণিকক্ষে তাদের হাতে বই তুলে দেন শিক্ষকেরা। বই পেয়ে কেউ ছুটে যায় মা-বাবার কাছে; কেউ সহপাঠীর সঙ্গে বই নিয়ে আলাপে মেতে ওঠে।

নতুন বই পেয়ে ভালো লাগার কথা জানাল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী চন্দ্রিমা সরকার ও ওয়াসিমা তারান্নুম ফাইজা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্কুলেই একবার বইগুলোয় চোখ বুলিয়েছে। বাসায় গিয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখবে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দিন সকালবেলায় পঞ্চম শ্রেণির চারটি শাখার ৩২০ ছাত্রীকে বই দেওয়া হচ্ছে। দুপুরের পর ষষ্ঠ শ্রেণির একটি শাখার ৮০ ছাত্রীকে বই দেওয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে অন্য শ্রেণির ছাত্রীদের বই বিতরণ করা হবে। বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২ হাজার ২৫০ ছাত্রী রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় এবার প্রায় দেড় কোটি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্ধেক বই চলে এসেছে। বাকি বইও কয়েক দিনের মধ্যে চলে আসবে।

নতুন বই পেয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সহপাঠীদের সঙ্গে

এদিকে নগরের লাভ লেনে অবস্থিত সরকারি ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন বই খুলে বসে ছিল চতুর্থ শ্রেণির সুইটি আক্তার ও তাহসিনুল হাসান। সঙ্গে ছিল পঞ্চম শ্রেণির ফারজানা আক্তার। বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পেয়ে খুব খুশি তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুনেছা বলেন, প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ১১৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। প্রাথমিকের সব বই চলে এসেছে। আগামীকাল রোববারের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। আর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কিছু বই এখনো আসেনি। তারপরও যা এসেছে, তা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।

এই বিদ্যালয়ের বই বিতরণ কার্যক্রম দেখতে এসেছিলেন সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা লিপি রানী গোপ। তিনি বলেন, সকাল থেকে খুব সুন্দর পরিবেশে স্কুলগুলোয় বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও প্রথম দিন নতুন বই পেয়ে খুব আনন্দিত। নগরের কোতোয়ালি থানার ১৪১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা ছিল ২ লাখ ১ হাজার। ইতিমধ্যে তা বিদ্যালয়গুলোয় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।