
সোমবার নাটোরে এক দিনে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। রোববার এই হার ছিল ৫১ শতাংশ। এ অবস্থায় জেলায় কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়াতে শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ বুথ উদ্বোধন করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় করোনার সংক্রমণ ছিল ১ জুন ৫৩ দশমিক ১২, ২ জুন ৩৯ দশমিক ১৩, ৩ জুন ৪৮ দশমিক ২৭, ৪ জুন ২৯ দশমিক ৬, ৫ জুন ৪৪ দশমিক ৪৪, ৬ জুন ৫১ দশমিক ২১ ও সর্বশেষ ৭ জুন ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ হিসাবে নাটোরে গত সাত দিনে করোনা সংক্রমণের গড় হার ছিল ৪৩ দশমিক ৫৮ ভাগ।
তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করেন, করোনা সংক্রমণের হার ও নতুন রোগীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে বাড়লেও জেলায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা তেমন একটা বাড়ছে না। জুন মাসের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত সাত দিনে মাত্র ২৩৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। জেলার ২০ লাখ মানুষের বিপরীতে এই নমুনা খুব সামান্য। ফলে সামাজিকভাবে সংক্রমণের পরিস্থিতি কেমন, তা জানা যাচ্ছে না। রোববার রাতে জেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সভায় অধিক হারে নমুনা পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ বুথ করে নমুনা পরীক্ষা করানো হবে।
সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার সকালে শহরের কানাইখালী কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ বুথ উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বুথ উদ্বোধনের পর বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা না দেওয়া পর্যন্ত কেউ নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ফলে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু সমাজভিত্তিক নমুনা পরীক্ষা করা হলে সংক্রমণ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র জানা যেত। তিনি সবাইকে নমুনা পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানান। বিনা খরচায় এ পরীক্ষা করা হবে। জেলার স্কাউট সদস্যরা এ কাজে সহায়তা করছেন। বুথ উদ্বোধনের সময় সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাহিদ সারোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নাটোর জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫০১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। সোমবার বিকেলে পর্যন্ত আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সদর হাসপাতালে ৩১ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৯ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩৪৫ জন। সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে শনাক্ত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে।