যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চিকিৎসকসহ নানা সংকটে জর্জরিত। একদিকের সীমানাপ্রাচীর নেই, নেই নৈশপ্রহরী। রাতে হাসপাতালটির ছাদে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শহরের বকচরে ১৯৬১ সালে তিন একর জমির ওপর ২০ শয্যার যক্ষ্মা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। সরকার ১৯৯৭ সালে তা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে রূপান্তর করে। এ হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু চিকিৎসা হয় মূলত যক্ষ্মার। দুজন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন একজন। তিনজন জ্যেষ্ঠ নার্স আছেন, প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরও দুজনকে। দুজন সহকারী নার্সের একজনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটির ফার্মাসিস্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য। দুটি কুক মশালচি পদের বিপরীতে আছেন একজন। নৈশপ্রহরীর কোনো পদ নেই। নেই পরীক্ষাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি। এক্স-রে করা হয় না। দুটি নেবুলাইজারের মধ্যে একটি নষ্ট। অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে তিনটি, তবে সেগুলোও ব্যবহার করা হয় না।
হাসপাতালটিতে সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা না থাকায় তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে তাঁদের নির্ভর করতে হয় ওয়ার্ডবয়দের ওপর।
গত ১৩ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির তিনদিকে সীমানাপ্রাচীর আছে। একদিকে ফাঁকা। চত্বরের এক পাশে বাঁধা রয়েছে দুটি গরু ও দুটি ছাগল। অন্য পাশে ক্রিকেট খেলছে একদল কিশোর। হাসপাতালের ভবনটি বেশ পুরোনো। এতে রয়েছে দুটি ওয়ার্ড। প্রতি ওয়ার্ডে ১০টি করে শয্যা রয়েছে। ভর্তি আছেন নয়জন রোগী। মুখে কাপড় বেঁধে শয্যায় শুয়ে আছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের চতুর আলী। তিনি বলেন, বুকে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করে। এখন কিছুটা ভালো। চিকিৎসক তাঁকে বলেছেন, আরও এক মাস চার দিন থাকতে হবে।
মনিরামপুর উপজেলার হাসাডাঙ্গা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় মাস হলো ভর্তি হয়েছি। এখন শরীরের অবস্থা কিছুটা ভালো। হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ পাচ্ছি। কিন্তু চিকিৎসক সব সময় পাওয়া যায় না। তা ছাড়া পরীক্ষা করতে অনেক দূরে যেতে হয়।’
চৌগাছা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাদল মোড়ল বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় আমার ওজন ছিল ২৪ কেজি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৯ কেজি। দিন দিন উন্নতি হচ্ছে।’
বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মোসা. শরীফা খাতুন বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনা মূল্যে সব ওষুধ দেওয়া হয়। একজন চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকার পরও আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’
সিভিল সার্জনের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর এ বছর প্রথম ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের ভবন সংস্কার করা হয়েছে। গড়ে এখানে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি থাকে। পরীক্ষাগার না থাকায় তাঁদের রোগের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে। এক্স-রে করাতে পাঠানো হয় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সিভিল সার্জন গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, ‘শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ মুহূর্তে জরুরি দরকার একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা। চিকিৎসক নিয়োগের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।’