নার্সের গৃহকর্মীর করোনা শনাক্ত, গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করা এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বিভিন্ন সময়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসকসহ ৫৬ জন কর্মী রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন এক নারী। ওই নারী কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আয়ার কাজও করতেন। হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায়ও ছোটখাটো কাজ করে দিতেন। সম্প্রতি ওই নারীর বাবা মারা যান। এ কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানতে পারে, ওই নারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক ওই নারী যে নার্সের বাসায় কাজ করতেন, তাঁর বাসাসহ ছয়টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

এরপর শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ রাতে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তিনি তথ্য পান আক্রান্ত ওই নারী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তখন সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে হাসপাতালটি লকডাউন করার সিদ্ধান্ত জানান। রাত সাড়ে ১১টার সময় সিভিল সার্জন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় আক্রান্ত ওই নারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক চিকিৎসক, নার্স ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। উপায় না পেয়ে হাসপাতালটিই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের পরিবারের সদস্য ও হাসপাতালে থাকা রোগীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। আজ মঙ্গলবার প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় আক্রান্ত ওই নারীর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। আপাতত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন থাকবে। যারা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তাঁরাও আপাতত বাইরে যেতে পারবেন না। ভেতরে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসাইন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন হওয়ায় অনেক সমস্যা সৃষ্টি হলো। স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবার কাজ বিঘ্ন হবে। পাশাপাশি চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নমুনা সংগ্রহের কাজ মারাত্মক রকম বাধার মুখে পড়বে। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়েছে অন্য উপজেলা ও জেলা থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দেওয়ার।