নিমগাছের জন্য শোকগাথা

ঝড়ে উপড়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনের বেশ পুরোনো নিমগাছটি l ছবি: প্রথম আলো
ঝড়ে উপড়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনের বেশ পুরোনো নিমগাছটি l ছবি: প্রথম আলো

একটি নিমগাছ। প্রচণ্ড রোদে গাছটি যেমন ছায়া দিত, তেমনি এর নিচে দাঁড়ালে নির্মল বাতাস পাওয়া যেত। গাছটির উপড়ে পড়ায় মন খারাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গাছটির ছবিও দিচ্ছেন। গাছটির জন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের শোক যেন একটু বেশি। প্রবাসে থাকা অনেকেই তাঁদের স্মৃতিচারণা করেছেন এই নিমগাছ নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের বহু বছরের পুরোনো নিমগাছটির জন্য দুই দিন ধরে এই শোকগাথা চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামের গ্রুপটাতে। এ ছাড়া অনেকে তাঁদের নিজেদের প্রোফাইলেও গাছটির ছবি দিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

বুধবার ভোরে ঝড়ে এই নিমগাছটি উপড়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা গাছটি ঘিরে গল্প করছেন। অনেকেই মুঠোফানে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাফায়াত সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই গাছটার নিচে আমাদের অনেক আড্ডা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পড়েছেন অধিকাংশেরই কোনো না কোনো স্মৃতি আছে এখানে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রুপটিতে সাজেদুল ইসলামের দেওয়া এই গাছের একটা ছবিতে গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার জন স্মৃতিচারণা করে মন্তব্য করেছেন। তিনি গাছটির ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা।’

আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ছাত্র লিখেছেন, ‘একটি ইতিহাসের মৃত্য।’ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র সালেহীন কবির লিখেছেন, ‘দুঃখজনক।’ জায়েদ হোসেন নামের এক ছাত্র এই গাছটার স্থলে আরেকটা গাছের জন্ম দেওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন।

শাহজীদা নাজনীন নামের একজন লিখেছেন, তিনি স্মৃতি হিসেবে গাছের একটা ডাল বাসায় নিয়ে গেছেন। মাহফুজা মুন্না নামের এক ছাত্রী গাছটির উপড়ে পড়ার কারণ হিসেবে লিখেছেন, গোড়া পচে যাওয়ায় গাছটি আর ঝড়ে টিকতে পারেনি। এখানে আরেকটি গাছ লাগানো উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন রাবেয়া বেগম। তিনি লিখেছেন, ‘এত বড় একটা ঔষধি গাছ, কী সুন্দর নির্মল বাতাস ও অক্সিজেন দিত। পরিবেশ ঠান্ডা রাখত। কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয়ে অনুরোধ, এই উপড়ে পড়া গাছটির আশপাশে আরও কয়েকটি নিমগাছ লাগিয়ে এলাকার সুশীতল পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।’

জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় নিম সম্পর্কে বলা হয়েছে, গাছটি চিরসবুজ। বহুমুখী ব্যবহার্য উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে নিম অন্যতম। মক্কার আরাফাত ময়দানে সুদৃষ্ট নিমগাছগুলোর চারা বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত।