
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় পটুয়াখালীর জমিদার রাজেশ্বর রায় চৌধুরীর কাছারিবাড়িটি এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। প্রায় ২৫০ বছর আগে শহরের নতুন বাজার এলাকায় ওই বাড়িটি নির্মিত হয় বলে জানা গেছে।
সিরাজ উদ্দীন আহমেদের লেখা ‘বরিশালের ইতিহাস’ ও ইয়াকুব আলী সিকদারের প্রবন্ধ ‘পটুয়াখালীর অতীত ও বর্তমান’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭১ সালে পটুয়াখালী মহকুমায় উন্নীত হয়। কলসকাঠির জমিদার বরদা কান্ত রায় চৌধুরীর ছেলে বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী ১২৯৬ বঙ্গাব্দে পটুয়াখালী মহকুমার অধীন কালিকাপুর কিসমতের বন্দ্যোপাধ্যায় মুদাফা তালুকটি কিনে নেন। বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরীর চার ছেলের মধ্যে রাজেশ্বর রায় চৌধুরী পটুয়াখালীর জমিদারি পরিচালনা করেন। জমিদারি প্রথার অবসানের পর তাঁরা ভারতে চলে যান। এরপর তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি পরিত্যক্ত ও অনাবাসী সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। পরে পাকিস্তান আমলে সেখানে সদর তহশিল কার্যালয় স্থাপিত হয়।
বছর খানেক আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কাছারিবাড়িকে ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উল্লেখ করে একটি বিজ্ঞপ্তি ও সাইনবোর্ড টানানো হয়। পরে সেখানে গত জুলাই মাসে টানানো একটি সতর্কীকরণ সাইন বোর্ডে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়ে যায়। অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। এরপরও ভবনটি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভবনটি সংরক্ষণ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।