সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ফের সংঘাতের আশঙ্কা আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। সেই আশঙ্কা সত্যি হলো আজ সোমবার খাগড়াছড়ির পানছড়ির পুজগাং বাজার এলাকায় গুলিতে দুজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রশাসন দাবি করছে। নির্বাচনী সংঘাত নয় বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম দাবি করলেও একই সময়ে পুজগাং বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোলাগুলিতে নিহত হন দুজন। তাঁরা হলেন পানছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা চিক্কু চাকমা (৩২) ও একজন শ্রমিক সোহেল রানা। চিক্কু চাকমা ইউপিডিএফের সমর্থক বলে আঞ্চলিক দলটির দাবি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আলম প্রথম আলোকে জানান, আঞ্চলিক দুটি দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এদের একটি ইউপিডিএফ এবং ইউপিডিএফ থেকে বের হওয়া অপর একটি দলের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল পুজরাং ইউনিয়নের পুজগাং বাজারটির পানছড়ি সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পাহাড়ি পথের দূরত্বে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় কেউ আহত নেই বলে পুলিশ জানায়।
ঘটনার পরপর সেখানে যান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইউপিডিএফ ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন শ্রমিক এবং একজন দলীয় কর্মী মারা গেছেন। এটি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি দুই আঞ্চলিক দলের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই।
নির্বাচনে যাতে এর প্রভাব না পড়ে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইউপিডিএফের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনাও সেখানে ঘটেনি বলে দাবি করেন ডিসি।
তবে ইউপিডিএফের অভিযোগ, ‘ডিসি মিথ্যাচার করছেন। এ বিষয়ে দলটির প্রচার সম্পাদক নিরণ চাকমা বলেন, নির্বাচনী ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প থেকে কিছু দূরে কলেজের পাশে অতর্কিত গুলিতে দুজন নিরীহ মানুষ মারা যায়। তাঁদের একজন আমাদের সমর্থক।’
নিরণ চাকমা আরও বলেন, জেএসএস (এম এন লারমা) আওয়ামী লীগের হয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন, যাতে ইউপিডিএফ নির্বাচন থেকে সরে যায়। কারণ জেএসএস নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। এটি নির্বাচনী সংঘাত।