ঢাকা উত্তর–ওয়ার্ড ১

প্রায় মৃত আবদুল্লাহপুর খাল: প্রার্থীদের ভাবনা

মাটি জমে আবদুল্লাহপুর খালের মধ্যে ঘাস, গাছপালা গজিয়েছে। পানির প্রবাহও প্রায় বন্ধ। কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। গতকাল তোলা ছবি l সাজিদ হোসেন
মাটি জমে আবদুল্লাহপুর খালের মধ্যে ঘাস, গাছপালা গজিয়েছে। পানির প্রবাহও প্রায় বন্ধ। কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। গতকাল তোলা ছবি l সাজিদ হোসেন

কৃত্রিম লেকের পানি মোটামুটি স্বচ্ছ। মাঝেমধ্যে পানি পরিষ্কার করা হয়। লেকের পাশের রাস্তায় মোটামুটি স্বচ্ছন্দে হাঁটাহাঁটি করেন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা। ঠিক পাশের প্রাকৃতিক খালটির চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। মাটি জমে খালের মধ্যে ঘাস, গাছপালা গজিয়েছে। পানির প্রবাহও প্রায় বন্ধ। কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
প্রথমটি রাজধানী উত্তরার কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি কৃত্রিম লেক। দ্বিতীয়টি আবদুল্লাহপুর খাল। প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আবদুল্লাহপুর খাল আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ হয়ে তুরাগ নদে গিয়ে মিশেছে। বিপরীত দিকে ১০ ও ১১ নম্বর সেক্টর হয়ে ফুলবাড়িয়া হয়ে খালপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে খালটি প্রায় মৃত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর উত্তরা মডেল টাউন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই খাল।

হেলাল তালুকদার


ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনে করছেন, উত্তরার জন্য খালটি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পার্টি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শরীফুল আলম বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে খালটি খনন ও পানি স্বচ্ছ রাখার ব্যবস্থা করবেন। পক্ষান্তরে আধুনিক শহরের একটি লেক যেমন হওয়ার প্রয়োজন, সেভাবেই খালটি তৈরি করবেন বলে জানালেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আফছার উদ্দিন খান।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী কফিলউদ্দিনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. হেলাল তালুকদার বললেন, খাল পরিষ্কার করে তিনি মাছ চাষের ব্যবস্থা করবেন।
উত্তরায় কৃত্রিমভাবে তৈরি লেকটি ৩, ৫, ৭, ৯, ১১ ও ১৩ নম্বর সেক্টরের মধ্যে। এটি আবদুল্লাহপুর খালে মিশেছে। মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করা হয় বলে এই লেকের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার। কিন্তু ময়লা আবর্জনা জমে এই লেকের পানিও প্রায়ই দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ১১ নম্বর সেক্টরের শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের অংশে অনেক স্থান বেদখল হয়ে গেছে। এর ফলে অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে পানি প্রবাহের জায়গা।

আফছার উদ্দিন খান


গতকাল শুক্রবার আবদুল্লাহপুর খালের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, ঠিকমতো ব্যবহার করা গেলে এটি উত্তরাবাসীর জন্য আশীর্বাদ হতে পারত। কিন্তু এটি এখন ১০ ও ১১ নম্বর সেক্টরের অধিবাসীদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা রাকিব আহমেদ বললেন, ‘দুর্গন্ধের জন্য এই খালের পাড়ে হাঁটা দায়। কিন্তু উপায় কী? নিরুপায় হয়ে বাসিন্দারা সকাল-বিকেল এখানেই হাঁটেন।’
১০ ও ১১ নম্বর সেক্টরের মধ্যবর্তী নতুন ও পুরোনো সেতু দুটির ওপর দাঁড়িয়ে দেখা গেল, খালের ওপর মাটি জমে সেখানে ঘাস, গাছপালা গজিয়েছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে খালটি সরু একটি নালায় পরিণত হয়েছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। এখানকার বাসিন্দারা খালের ভেতর নিয়মিত ফেলছেন বস্তাভর্তি ময়লা ও ডাবের খোসা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি এই খালটি সংস্কারের কাজ করে ওয়াসা। তারা আবদুল্লাহপুরের স্লুইসগেট থেকে ১০ ও ১১ নম্বর সেক্টরের মধ্যবর্তী নতুন সেতু পর্যন্ত অংশের সংস্কার করেছে। আর পুরোনো সেতুর ১০০ গজ দূর থেকে খালপাড় পর্যন্ত অংশের সংস্কার শুরু করেছে। কিন্তু এ দুটি জায়গার মধ্যবর্তী নতুন ও পুরোনো সেতুর মাঝখানের অংশকে এই সংস্কারের আওতায় নেওয়া হয়নি।
উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি কাজী আলী হায়দার বলেন, খালের মাঝখানের জায়গাটুকু সংস্কার করা না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। তিনি জানান, তঁাদের সমিতির পক্ষ থেকে ওয়াসাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।