
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) অচল হয়ে থাকা ১৬টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে অবশেষে ১০টি সচল করা সম্ভব হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত আইসিইউর ১০টি ভেন্টিলেটর চালু হওয়ায় এখানে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
২০১৫ সালে ফরিদপুর মেডিকেলে ১৬ শয্যার আইসিইউ স্থাপন করা হয়। কিন্তু পর্যন্ত ওই ইউনিটটি চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল ইউনিটটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। করোনা রোগের চিকিৎসার তোড়জোড় শুরু হলে নজর পড়ে এই ইউনিটের দিকে।
ফমেক হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ‘জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি আমরা এই ইউনিট চালু করার উদ্যোগ নিতে গিয়ে দেখি সেখানকার ১৬টি বিশেষায়িত শয্যার যে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের তথা ভেন্টিলেশনের মেশিন রয়েছে, তার সবই অচল হয়ে রয়েছে। এরপর ঢাকা থেকে প্রকৌশলী এনে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’
সাইফুর রহমান বলেন, ‘১৬টির মধ্যে ১০টি ভেন্টিলেটর সচল করা গেছে। আপাতত এ দিয়েই আমরা ইউনিটটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। বাকিগুলো সচল করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে।’ এ জন্য একটু বেশি সময়ের প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে ১৬টি ভেন্টিলেটর ছিল। এ ছাড়া জেলায় কোনো হাসপাতালে ভেন্টিলেটর নেই।
পাঁচ বছর আগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল ১৬ শয্যার এই আইসিইউ। এটি দেশব্যাপী বহুল বিতর্কিত ৩৭ লাখ টাকার পর্দাকাণ্ডের সেই ইউনিট। বর্তমানে এই ইউনিটের মালামাল ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে দুদকের মামলা চলছে।
১৬ এপ্রিল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে আপাতত ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালের ২৫০ শয্যায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে প্রয়োজন হলে বাকি ২৫০ শয্যাও করোনা রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত কলেজের চারতলায় করোনা রোগীর পরীক্ষার জন্য বসানো হয়েছে পিসিআর মেশিন। ২২ এপ্রিল থেকে ফরিদপুরে করোনা রোগী পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম খবিরুল ইসলাম।