ইউএনওডিসির প্রতিবেদন

বাংলাদেশ থেকে শিশু পাচার বেশি হচ্ছে

গোটা বিশ্বে যত মানব পাচারের ঘটনা ঘটে, তার ৭০ শতাংশের শিকার নারী ও শিশু। আবার প্রতি তিনটি শিশুর মধ্যে দুটি শিশুই কন্যা। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। এই দেশগুলো থেকে যত মানুষ পাচার হচ্ছে, তার ৬২ শতাংশই শিশু।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকেও নারী ও শিশুরা পাচার হচ্ছে, যা আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের প্রায় সমান। বাংলাদেশ থেকে বহু শিশু পাচার হচ্ছে, নেপালে নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) থেকে গত ২৪ নভেম্বর মানব পাচার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে। ইউএনওডিসি বিভিন্ন দেশের সরকারের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে এ বছর বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ভেতরেও মানুষ পাচার হচ্ছে। আবার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পাচার হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভারত থেকে নেপাল ও বাংলাদেশের পাচার হওয়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি পূর্ব ইউরোপ থেকে পাচার হয়ে আসা মানুষও ভারতে উদ্ধার হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে মানব পাচার হচ্ছে বিস্তৃত এলাকায়। দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে বিশ্বের সব কটি অঞ্চলের ৩৭টি দেশ থেকে। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দেশ এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকেও পাচার হয়ে যাওয়া বহু মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই অঞ্চলে পাচার হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেডোটভ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্বে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে পাচার হওয়ার ঘটনা ঘটছে না। বিশ্বের ১৫২টি দেশ থেকে মূলত ১২৪টি দেশে মানব পাচার হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই হাজার ১৪৫ জন পাচার হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৬৬৫ জন পুরুষ, ২৮৭ জন নারী ও ১৯৩টি শিশু।