বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া

বাল্যবিবাহ হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা বাতিল হবে

বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পর বিয়েটি হলেও আদালত তা বাতিলের আদেশ দিতে পারবেন। জালিয়াতি, প্রতারণা, জোরপূর্বক বা পাচারের পর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে এবং ধর্ষণ, পরে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করা হলে সে বিয়েও বাতিল হবে। এ ধরনের বিয়ের ফলে জন্মগ্রহণকারী শিশুর নিরাপত্তা, হেফাজত ও ভরণপোষণের দায়িত্ব আদালত নির্ধারণ করবেন।
আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিল হলে দুই পক্ষকেই যৌতুক বা অন্যান্য পাওয়া উপহার ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধেরও আদেশ দেবেন আদালত। আদালত সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করবেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ধরনের বিধান রেখে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি আইন করতে যাচ্ছে। ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪’-এর খসড়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের কাছ থেকে এ বিষয়ে কিছু মতামত পাওয়া গেছে। সবার কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভায় খসড়া চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
খসড়া অনুযায়ী, আদালত এই আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেই বিয়ে অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কোনো ব্যক্তি তা অমান্য করলে ছয় মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। বিয়ের সময় ছেলের বয়স ২১ বছরের কম এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে তা বাল্যবিবাহ হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ১৯২৯ সালের একটি আইন বর্তমানে বিদ্যমান। বিভিন্ন সময়ে এ আইনের কিছু অংশের সংশোধনীও আনা হয়েছে। বর্তমানে আইনটির তেমন প্রয়োগ নেই। যুগোপযোগীও নয় আইনটি।
খসড়া অনুযায়ী, শিশু বা নাবালকের বিয়ের সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তিকারী দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান বা পরিচালনাকারী এবং বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বাবা-মা অথবা অভিভাবকদেরও একই শাস্তি হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে বিয়ের সময় জন্মনিবন্ধন সনদ দেখা হচ্ছে। তবে সনদ জাল করে বাল্যবিবাহ ঘটেই চলেছে। তাই বিয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
খসড়া আইনে স্বেচ্ছায় বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান বা আয়োজনে সহায়তাকারী নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন বাতিল করা হবে বলে বলা হয়েছে। বিয়ের সময় কন্যা ও বরের বয়স প্রমাণের জন্য বিয়ে পরিচালনাকারীর কাছে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ দেখাতে হবে।
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কথাও আইনের খসড়ায় বলা আছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, ২০০৮ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ৩৯৬টি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে।