খুলনা-৩ আসন

বিএনপির টিকিট কার হাতে

অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ,রকিবুল ইসলাম বকুল ,কাজী সেকেন্দার আলী ,আরিফুর রহমান মিঠু
অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ,রকিবুল ইসলাম বকুল ,কাজী সেকেন্দার আলী ,আরিফুর রহমান মিঠু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। আর ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বিএনপির ছয়জন নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাই শেষ পর্যন্ত এই আসনে কে হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, তা নিয়ে সর্বত্র চলছে জল্পনাকল্পনা। দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠাও বেড়েছে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাঈম মো. ফকরুল আলম, মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও খালিশপুর থানা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিঠু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জাহিদ হোসেন অমল।

দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মোটামুটি তিন ভাগে বিভক্ত। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার–সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে বেশ আলোচনায় ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে একটি অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বিএনপির একটি অংশ বলছে, তারেক রহমানের খুবই আস্থাভাজন বকুল। তিনি এ আসন থেকে প্রার্থী হলে বিজয় সুনিশ্চিত, জিতলে এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ‘রাজপথে রাজনীতি করা এমন কাউকে চাই। হাইব্রিড কাউকে চাই না। যে মানুষ এলাকায় আমাদের সঙ্গে এক দিনও মিছিল করেনি, কোনো কর্মীর মৃত্যুতে তাঁর জানাজায় যায়নি। কর্মীদের পাশে ছিল না তিনি যেন মনোনয়ন না পান।’

>এই আসনে বিএনপি মোটামুটি তিন ভাগে বিভক্ত। হাইব্রিড কাউকে প্রার্থী হিসেবে চান না নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে বকুলের অনুসারী একজন নেতা বলেন, ‘বকুল ভাই হয়তো খুলনার মাঠে ছিলেন না, তবে অন্য কোনো মাঠে ছিলেন। লড়াইয়ের মাঠ তো এটুকু না। সমগ্র দেশই তো একটা লড়াইয়ের মাঠ। তিনি এলে আসনটি বিএনপি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন, খুলনার উন্নয়ন হবে।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম ও অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কাজী সেকেন্দার আলী বয়সের ভারে অনেকটা ন্যুব্জ, হারিয়েছেন কর্মী–সমর্থক। তবে আন্দোলন–সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় অবস্থানে তারিকুল ইসলাম। তারিকুল বলেন, ‘এমন কোনো কর্মদিবস নেই যেদিন আমার আদালতে হাজিরা দেওয়া লাগে না। এমন কোনো আন্দোলন নেই, যেখানে আমি সক্রিয় ভূমিকা রাখি না। আমার নামে ৩৬টি মামলা। খুলনাতে আমার চেয়ে বেশি মামলা কোনো সিনিয়র নেতারও নেই। আমি মনোনয়নের বিষয়ে পূর্ণ আশাবাদী।’

আর আরিফুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপির সভাপতির একটি দ্বন্দ্ব চলছে। তিনি নির্বাচনী এলাকায় আলাদা কর্মসূচি পালন করে থাকেন। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁর অনুসারী দুজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। আরিফুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে দলের কাছে দাবি, যাঁরা এত দিন মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। উড়ে এসে জুড়ে বসা কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের ক্ষতি হবে।’

খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি মীর কায়সেদ আলীর দাবি, দলে কোন্দল তেমন নেই। দল যাঁকে ভালো মনে করবে, নিশ্চয়ই তাঁকে মনোনয়ন দেবে। সবাই দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।