নেত্রকোনার পাঁচটি আসন

বিএনপির ১৩ প্রার্থী নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা

জেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ স্বতন্ত্র হিসেবে মোট ৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবি, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দলসহ স্বতন্ত্র হিসেবে মোট ৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পাঁচটি আসনে বিএনপির ১৩ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে এলাকায় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। শেষমেশ কে হবেন দলটির প্রার্থী, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। এতে প্রার্থীরাও স্বস্তিতে নেই।

দলীয় ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। এই আসন থেকে বিএনপির শরিক দল এলডিপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ করিম আব্বাসীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই তিনজন থেকে যিনিই মনোনীত হবেন, তাঁকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মানু মজুমদারের সঙ্গে লড়তে হবে।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় চারজনকে। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক ড্যাবের নেতা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এ টি এম আবদুল বারী ড্যানি ও আবু হায়দার মোহাম্মদ ইউসুফ। এর মধ্যে আশরাফ উদ্দিন খানকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এবার বিএনপি থেকে চূড়ান্তভাবে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খানের সঙ্গে লড়তে হবে।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দুইজন। তাঁরা হলেন মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী ও দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। রফিকুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা। তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। দেলোয়ার কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সম্পাদক। দেলোয়ার টানা দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, একবার পৌরসভার মেয়র ও কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। এই দুইজনের মধ্যে দল যাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী করবে, তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অসীম কুমার উকিলের সঙ্গে লড়তে হবে। অসীম কুমার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তাহমিনা জামান শ্রাবণী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক। তাঁদের মধ্যে তাহমিনা জামান বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী। এবার বিএনপির এই দুই প্রার্থী থেকে যাঁকে চূড়ান্তভাবে রাখা হবে, তাঁকে আওয়ামী লীগের টানা দুইবারের সাংসদ রেবেকা মমিনের সঙ্গে লড়তে হবে।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবু তাহের তালুকদার, এ এস এম শহীদুল্লাহ ও রাবেয়া খাতুন। তিনজনের মধ্যে আবু তাহের নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ছাড়াও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পর টানা তিনবার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য। আর রাবেয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। শহীদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা। তিনজনের মধ্যে যাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হবে, তাঁকে আওয়ামী লীগের টানা দুইবারের সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (বীর প্রতীক) সঙ্গে লড়তে হবে। ওয়ারেসাত পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।