পঞ্চগড়ের ময়নাগুড়ি সীমান্তে পতাকা বৈঠক আজ

বিএসএফের সহযোগিতায় বাংলাদেশের জমি দখল!

পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝামাঝি ময়নাগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয়রা বাংলাদেশের প্রায় ২০ একর জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় ওই জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজিবিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে ময়নাগুড়ি সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি কৃষকেরা অভিযোগ করেন, ময়নাগুড়ি সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৪২৪ থেকে ৪২৫ পর্যন্ত এবং ৪৩৩ থেকে ৪৩৫ পর্যন্ত এলাকায় করতোয়া নদীর অপর পাড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের ময়নাগুড়ি, বন্দরপাড়া, ঠিলাপাড়া গ্রামের অর্ধশত কৃষকের প্রায় ২০ একর জমি রয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে এসব জমি বাংলাদেশি কৃষকেরা চাষাবাদ করে আসছেন।
গত ২৭ অক্টোবর বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার নজরপুর গ্রামের লোকজন বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে কৃষকের প্রায় পাঁচ একর জমির আধা পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। বাকি ১৫ একর জমিতে বাংলাদেশি কৃষকদের হালচাষে বাধা দিচ্ছে বিএসএফ। বিএসএফের প্রহরায় ভারতীয়রা ট্রাক্টর দিয়ে বাংলাদেশের এসব জমি দখল করে হালচাষ করছে। ওই এলাকায় বিএসএফের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে দিন-রাত সশস্ত্র প্রহরা দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। এ নিয়ে দুই দফায় কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ ক্যাম্পটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলেও বিএসএফ তা সরিয়ে নেয়নি।
গত শনিবার ময়নাগুড়ি সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, করতোয়া নদীর পাড় ঘেঁষে বাংলাদেশের প্রায় ২০ একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এর মধ্যে কিছু জমিতে ভারতীয় লোকজন চাষাবাদ করছে।
ভারতের নজরপুর গ্রামের কায়েদে আজম ও আবদুল মান্নান জানান, বাড়ির পাশে অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমিতে হালচাষ চলছে। আর বিএসএফ তাতে সহযোগিতা করছে। অথচ এসব জমির প্রকৃত মালিক পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ার ময়নাগুড়ি, বন্দরপাড়া ও ঠিলাপাড়া গ্রামের সাইফুল্লাহ, মোখলেছুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জাহেরুল হক, ফারুক হোসেন, আবু সাদেকসহ আরও কয়েকজন।
ওই জমির মালিক বাংলাদেশি কয়েকজন কৃষক প্রথম আলোকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এসব জমিতে ফসল আবাদ করে আসছেন। এক সপ্তাহ আগে ভারতীয় বাবুগছ ও বর্মণবস্তি বিএসএফ ফাঁড়ির সশস্ত্র সদস্যরা ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে কৃষকদের হালচাষে বাধা দেন। বিএসএফের বাধার মুখে বাংলাদেশি কৃষকেরা এলাকা ছেড়ে চলে আসেন। এর পরদিনই বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় নজরপুর গ্রামের লোকজন ওই এলাকার প্রায় পাঁচ একর জমির আধা পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
ময়নাগুড়ি গ্রামের সাইফুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই সীমান্তঘেঁষা এসব জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। এর আগে কোনো দিনই ভারতীয়রা তাঁদের জমি বলে দাবি করেনি। হঠাৎ করেই তারা এই জমি নিজেদের বলে দাবি করছে।’
বিজিবির ময়নাগুড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার আবদুল লতিফ ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, নদীর ওপারে হওয়ায় বিজিবির পক্ষে নদী পার হয়ে খুব সহজে ওই এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বিজিবির অনুপস্থিতিতে ভারতীয়রা বাংলাদেশি এসব জমিতে চাষাবাদ করছে বলে জানান তিনি।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ কে এম শামীম রেজা প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে এ নিয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, জমি দখল ও ধান কেটে নেওয়ার বিষয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজিবিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।