
শহীদ বেদিতে পড়ছে একে একে পুষ্পস্তবক। শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণ-রাজনৈতিক দল–নির্বিশেষে ব্যক্তি ও সংগঠনেরা জানাচ্ছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফুলেল শ্রদ্ধা ও সম্মান। স্মরণ করছে ভয়াল সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আজ ভোর থেকেই জড়ো হতে থাকেন নানা বয়সী মানুষেরা। সকাল সাতটা থেকে শুরু হয় শ্রদ্ধা জানানো। শোক, বিনম্র শ্রদ্ধা আর গভীর ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে সর্বস্তরের মানুষ। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদক স্মৃতিসৌধ এলাকায় থাকা পর্যন্ত চলছিল শ্রদ্ধা নিবেদন।
করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে এবার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা ও পুষ্পস্তবক সরাসরি জানাতে উপস্থিত হননি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তবে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় শহীদদের প্রতি সালাম জানায়।
এরপর শহীদ বেদিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকেও।
এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। একে একে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ, বিএনপি, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্মম আঘাত হানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস। সেদিন বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সংস্কৃতিক্ষেত্রের অগ্রগণ্য মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
আজ সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১৬ আসনের সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা, ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ আসলামুল হক ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।
বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন পরিবারের সদস্য ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে। অনেকের হাতেই ছিল ফুল ও জাতীয় পতাকা। তেমনই একজন মিরপুরের লালকুঠি এলাকার বাসিন্দা মির্জা আবদুস সালাম।
তিনি তাঁর দুই নাতনিকে নিয়ে স্মৃতিসৌধে এসেছেন। তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণ করতে আর আমার নাতনিরা যাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কথা জানতে পারে, সে জন্য নিয়ে এসেছি। ১৪ ডিসেম্বরে যাঁদের আমরা হারিয়েছি, সে ক্ষতি অপূরণীয়।