
ছয় দিন আগে ৭ মে সন্ধ্যা সময় সাভারের দোকান থেকে পাওনা টাকা আদায়ে বের হন ব্যবসায়ী আহসান হাবীব। সেদিন রাতেও বাসায় না ফেরায় পরদিন ৮ মে সাভার থানায় হাবীব নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহসান হাবীবের লাশ পেল তাঁর পরিবার। বর্তমানে আহসান হাবীবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা আছে।
এদিকে আহসান হাবীবকে হত্যা করার অভিযোগে তাঁর শ্যালক জাকারিয়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সাভারের ব্যবসায়ী আহসান হাবীবকে খুন করার অভিযোগে তাঁর পরিবার মামলা করেছে। আহসান হাবীব পুড়ে মারা গেছেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কে বা কারা তাঁকে পুড়িয়ে মারল, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
আহসান হাবীবের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। ১০ বছর ধরে তিনি সাভারে বসবাস করেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে কুষ্টিয়ায় থাকেন।
হাবীবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, হাবীবের বোনজামাই আনিসুজ্জামানের সাভারের আরএস টাওয়ারের চতুর্থ তলায় জিনস মার্ট নামে একটি শোরুম আছে। কয়েক বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন আহসান হাবীব।
আনিসুজ্জামানের ছোট ভাই মো. মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, ৭ মে সন্ধ্যায় আহসান হাবীব পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে দোকান থেকে বের হয়ে যান। রাতেও বাসায় না ফেরায় বারবার তাঁর মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও হাবীবের সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন সাভার থানায় নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে পুলিশও খোঁজাখুঁজি করেছে, তাঁরাও করেছেন। কিন্তু কোনো জায়গায় হাবীবের খোঁজ মিলছিল না। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানা থেকে জানানো হয়, হাবীবের লাশ আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। পরে তাঁরা ঢাকা মেডিকেলে এসে হাবীবের লাশ শনাক্ত করেন।
আহসান হাবীব সাভার থেকে কার ফোন পেয়ে কিংবা কার সঙ্গে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হরিনাটি যান, সে তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি কালিয়াকৈর থানা–পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুধু এতটুকু তথ্য জানতে পেরেছি, আহসান হাবীব নামের এক লোক ৭ মে কালিয়াকৈর হরিনাটি এলাকার একটি বাসার নিচতলায় আগুনে দগ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় ব্যক্তিরা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহসান হাবীব হাসপাতালে মারা যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আহসান হাবীবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তাঁর আত্মীয়স্বজনকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।’
ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, কালিয়াকৈরের হরিনাটির যে লোকের বাসায় আহসান হাবীব অগ্নিদগ্ধ হন, সেই বাসার মালিকের নাম আবদুল মজিদ। তবে যে কক্ষে আহসান হাবীব অগ্নিদগ্ধ হন, সেই কক্ষের ভাড়াটের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ওই ভাড়াটে এখন পলাতক। ওই ভাড়াটের নাম–ঠিকানাও জানেন না বাড়িওয়ালা।
আহসান হাবীবের কুষ্টিয়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল ১১ মে।
হাবীবের বেয়াই মো. মাসুম বলেন, হাবীব ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামে থাকেন।
প্রতিবছরই ঈদের আগে হাবীব ভাই বাড়ি যান। এ বছর দূরপাল্লার বাস বন্ধ। এ জন্য বাড়ি যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই মাইক্রোবাসে অন্যদের সঙ্গে তাঁর বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার। অথচ আহসান হাবীব ভাই এখন লাশ হয়ে বাড়ি ফিরবেন।
আহসান হাবীবের শ্যালক ও মামলার বাদী জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, আহসান হাবীব তাঁর বোনজামাইয়ের দোকান দেখাশোনা করতেন। কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল কি না, সে তথ্য তাঁর জানা নেই। কেন এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হলো, সেটাও তিনি জানে না। আহসান হাবীব খুন হয়েছেন। এ জন্য বিচার চেয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুনের মামলা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজিম প্রথম আলোকে বলেন, আহসান হাবীবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা আছে। এখনো তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। তদন্তের পর আহসান হাবীবের মৃত্যুরহস্য উন্মোচিত হবে।