মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের পাখিয়ালা এলাকায় থানার সামনে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ২৪টি দোকান নির্মিত হয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সড়কে জমে থাকা পানিনিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে।
এলাকাবাসী বলেন, ১০-১৫ বছর আগে থানার সামনের সড়কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করেন স্থানীয় কিছু লোক। পরে তাঁরা সেখানে ব্যবসা শুরু করেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০০-২৫০ ফুট দীর্ঘ জায়গায় ওষুধ, মুদি, চিকিৎসকের চেম্বার, পোলট্রি ফার্মসহ বিভিন্ন ধরনের অন্তত ২৪টি ছোট-বড় দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানের প্রস্থ ১০-১৫ ফুট। দোকান নির্মাণ করায় এর নিচ দিয়ে প্রবাহিত পানিনিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
রিপন নামের একজন মুদি দোকানদার বলেন, জায়গাটি সরকারি। তবে থানার ভেতরে স্থাপিত মসজিদ পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে তাঁরা ৫০০ টাকা করে ভাড়া দেন।
এস আর ড্রাগসের মালিক রসময় চন্দ্র নাথ ও লাকী ফার্মেসির মালিক প্রতাপ দাস বলেন, তাঁরা নিজেদের খরচেই দোকান নির্মাণ করেছেন। তাঁরাও ৪০০ টাকা করে ভাড়া দেন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় চার-পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের চোখের সামনেই অবৈধ স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছে। অথচ সেগুলো উচ্ছেদে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পাখিয়ালা এলাকার বাসিন্দা কায়সার পারভেজ, সাহেদুল ইসলাম ও আবদুস শুকুর বলেন, সড়কের এক পাশে থানা। অন্য পাশে হাসপাতাল। দোকান নির্মাণের ফলে এ জায়গাতে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। বৃষ্টি নামলে এলাকার পানিনিষ্কাশনও ব্যাহত হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ‘দোকানপাট থেকে পাওয়া ভাড়া দিয়ে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দেওয়া হয়। তবে এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কয়েক বছর আগে মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য তৎকালীন ওসি স্থানীয় কিছু লোকের সঙ্গে কনট্রাক্ট (চুক্তি) করে মসজিদ মার্কেট নামে ওই দোকানপাট চালু করেন বলে শুনেছি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এসব স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে পারে।’
বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, থানার সামনে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানগুলোর কারণে পানিনিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিপাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
মেয়র আরও বলেন, থানার মসজিদের ব্যয় নির্বাহে কেউ অক্ষম হলে এটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা যেতে পারে। প্রয়োজনে পৌরসভা মসজিদ নামকরণ করে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবেন।
সওজ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বড়লেখা থানার সামনের জায়গাটি তাঁদের। সেখানে বেশ কিছুদিন আগে অবৈধভাবে কিছু দোকানপাট নির্মিত হয়েছে। এ জায়গাসহ বড়লেখা পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে পুলিশ ও নির্বাহী হাকিম চেয়ে তাঁরা সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের পাওয়া গেলে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।