আজকের পুষ্টি কথা

ভিটামিন ডি-র অভাব পূরণে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো

ভিটামিন ডি–র অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়। এই রোগে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড় যথাযথ পুষ্টি না পাওয়ার ফলে মজবুত হয় না। রিকেট রোগাক্রান্ত শিশুদের পা ধনুকের মতো বেঁকে যায় এবং মাথার খুলি বড় হয়ে পড়ে। চলাফেরায় অসুবিধা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ এ রোগে ভুগলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। দেহে ভিটামিন ডি–র অভাবে দাঁত খারাপ হয়, অসময়ে দাঁত পড়ে যায়, চোয়ালের গঠন ঠিক হয় না, এমনকি শিশুরা স্বাভাবিক লম্বা হয় না।
এ ছাড়া ভিটামিন ডি–র অভাবে শিশুদের রিকেট রোগের মতো বড়দেরও অস্টিও ম্যালেসিয়া নামে এক প্রকার রোগ হয়। এই রোগে বয়স্কদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ক্ষয় হয়ে পড়ে। এই রোগকে ‘অ্যাডাল্ট রিকেটও’ বলা হয়ে থাকে। হাঁটাচলায় অসুবিধা এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। ধীরে ধীরে পা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাতের ওপর ভর করে চলতে হয়। কখনো কখনো কোমরে ও মেরুদণ্ডে বাতের ব্যথার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড বেঁকে যায়। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের এ রোগ বেশি হতে দেখা যায়। সে জন্য গর্ভকালে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকা দরকার।
সাধারণত ভিটামিন ডি প্রাণিজ খাদ্যেই বেশি পাওয়া যায়। তৈলাক্ত মাছ, যেমন কড বা হাঙর মাছের যকৃতের তেল এবং অন্যান্য প্রাণীর যকৃতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ ছাড়া দুধ, ডিমের কুসুম, মাখন ও চর্বিযুক্ত খাদ্যে ভিটামিন ডি থাকে। যেসব প্রাণী মাঠে চরে বেড়ায় এবং প্রচুর সূর্যালোক পায়, ওই সব প্রাণীর দুধ, ডিম ও যকৃতে ভিটামিন ডি–র পরিমাণ বেশি থাকে। তার তুলনায় মায়ের বুকের দুধে ভিটামিন ডি–র পরিমাণ কম থাকে।
খাদ্য উৎস ছাড়াও সূর্যালোক দেহে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। আমাদের চামড়ার নিচে কোলেস্টেরল নামক এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ আছে। সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে এর অতিবেগুনি রশ্মি চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কোলেস্টেরলের সংস্পর্শে এসে ভিটামিন ডি তৈরি করে। এ জন্য শিশুদের প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে শুইয়ে রাখলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। বাংলাদেশে বারো মাস সূর্যের আলো পাওয়া যায় এবং অধিকাংশ মানুষ দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটায়। সে জন্য ভিটামিন ডি–র অভাবজনিত সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ইদানীং অনেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে সময় কাটান। তাই ভিটামিন ডি–র ঘাটতি দেখা যায় তাঁদের শরীরে। নিয়ম করে প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে হাঁটলে ভিটামিন ডি–র চাহিদা মেটানো সম্ভব।
লেখক: প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল