মালিক সমিতি ও পরিবহনশ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মানিকগঞ্জ-দৌলতপুর সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
বাস কাউন্টারের সুপারভাইজারদের অভিযোগ, কাউন্টারগুলোতে নতুন করে সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় মালিক সমিতি ও শ্রমিকনেতাদের নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মালিক সমিতির নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মানিকগঞ্জ বাস মালিক সমিতির নেতা ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ, ঘিওর ও দৌলতপুর হয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ভাদ্রা পর্যন্ত সড়কে শুধু ভিলেজ লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। এই সড়কে ভিলেজ লাইন পরিবহনের ১৫টি বাস কাউন্টার রয়েছে। সম্প্রতি বাস মালিক সমিতির নেতাদের এক সভায় কাউন্টার কমিয়ে পাঁচটি কাউন্টার রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে সুপারভাইজাররা প্রতিবাদ জানালে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ভাদ্রা বাসস্ট্যান্ড কাউন্টারের সুপারভাইজার আবু তাহের, দৌলতপুর কাউন্টারের সুপারভাইজার আবদুল মালেক ও মান্দারতা কাউন্টারের সুপারভাইজার হায়দার আলী বলেন, পাঁচ বছর আগে ২০ হাজার করে টাকা দিয়ে অধিকাংশ কাউন্টারে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন জামানতের নামে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নেতারা। কিন্তু এতে সুপারভাইজাররা অপারগতা প্রকাশ করলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে তাঁদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মালিক সমিতির নেতারা। মানিকগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘কাউন্টারে দায়িত্বরত সুপারভাইজারদের বেতন দেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বাসমালিকদের খরচ কমানোর জন্য কাউন্টার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উৎকোচ দাবির বিষয়টি সত্য নয়।’
বাসমালিক ও শ্রমিকদের দ্বন্দ্বের জেরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। ঘিওরে ভিলেজ লাইন পরিবহন বাসের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, সামনে ঈদ আসছে। ধারদেনা করে তিনি বাস কিনেছেন। বাস বন্ধ থাকায় তাঁরাই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কয়েকজন যাত্রী জানান, ভিলেজ লাইন পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো বাস এই পথে চলাচল করে না। এই বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।