নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন একটি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ভবনটি উদ্বোধনের ছয় মাসের মধ্যে মাসে মাত্র ৩৬ হাজার টাকায় ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়।
কিন্তু ভবনটি ভাড়া দেওয়া নিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসক দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় তারা ভবনটি ভাড়া নিয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং জেলা প্রশাসক—কোনো পক্ষই ভবনটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে দায় নিচ্ছে না। বরং এ ব্যাপারে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেশের সব কটি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় হবিগঞ্জেও এ ভবনটি তৈরি করা হয়। সরকারি ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা অর্থায়নে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিন্তু এর মাস ছয়েক পরই ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা ‘চাঁদের হাসি’ নামের একটি হাসপাতালকে ভাড়া দেওয়া হয়। হাসপাতালের উপযোগী করতে ভবনের অবকাঠামোও পরিবর্তন করা হয়েছে।
জেলা গণপূর্ত প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, নকশা অনুযায়ী ভবনটির নিচতলায় ১৪৫ বর্গফুটের নয়টি কক্ষ, দ্বিতীয় তলায় কমিউনিটি সেন্টার এবং তৃতীয় তলায় কার্যালয় ও কনফারেন্স হল রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নিচতলার কক্ষগুলো দোকান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের মধ্যে ভাড়া দেওয়ার কথা, কিন্তু তা করা হয়নি।
সরেজমিনে গত সোমবার দেখা যায়, নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ করিয়ে নিচতলায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বার ও কার্যালয়কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় তলা ব্যবহৃত হচ্ছে রোগীদের থাকা (কেবিন) ও অস্ত্রোপচারের কক্ষ হিসেবে। ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলারও নির্মাণকাজ চলছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের দায়িত্বে থাকাকালীন নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দেওয়ার চুক্তি হয়। এতে সাক্ষী হিসেবে সই করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের বর্তমান কমান্ডার। ওই দুই তলার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেয়। এ ছাড়া মাসে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দেওয়ার চুক্তি হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এখন নিজেদের অর্থায়নে ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ করছে। এ দুটি তলাও হাসপাতালটিকে ভাড়া দেওয়া হবে। সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে অর্ধলাখ টাকার চুক্তি হয়েছে।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ মনিম বলেন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে এক বছর আগে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে নকশা পরিবর্তন করা হলে তারা করেছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠান বলেন, গত এক বছর নানা জটিলতার কারণে জেলা প্রশাসক ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন। তখনই এটি ভাড়া দেওয়া হয়। এখন ইউনিট নতুন করে চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নির্মাণ করছে। এ অংশটিও হাসপাতালকে ভাড়া দেওয়া হবে। ভাড়ার টাকা কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, জানতে চাইলে জেলা কমান্ডার বলেন, ওই টাকায় কার্যালয় খরচ, কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির ব্যয় বহন করা হবে।
জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন পরিচালনাকালীন তিনি দায়িত্বে ছিলেন সত্য। তবে গত বছরের জুলাইয়ে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে। এরপর তারাই এগুলো ভাড়া দেয়। ভবনটি ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক।