মেরুল বাড্ডা রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় অভিযান শুরুর পরই স্থগিত

মেরুল বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আনা হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা।
মেরুল বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আনা হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা।

অকুস্থলে অতিকায় হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর। হাতুড়ি-শাবল নিয়ে জনাবিশেক শ্রমিক আদেশের অপেক্ষায়। বন্দুক হাতে হাজির পুলিশ। ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতও। অননুমোদিত স্থাপনার মালিকদের দ্রুত জায়গা খালি করার জন্য বলা হলো। কিন্তু পরক্ষণেই এল অভিযান স্থগিতের ঘোষণা।

গতকাল বুধবার সকালে মেরুল বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ও অননুমোদিত বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অভিযানের আয়োজন করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

 রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্পটি ডিআইটি প্রজেক্ট নামেও পরিচিত। দুই বছর আগে নকশাবহির্ভূত ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণে এখানকার শতাধিক ভবনমালিককে রাজউক নোটিশ দিলেও তা আমলে নেননি তাঁরা।

অভিযান পরিচালনার জন্য গতকাল সকাল ১০টার পর বাড্ডা থানার সামনে হাজির হন রাজউক কর্মকর্তারা। হাইড্রোলিক এক্সকাভেটরটি রাখা হয় থানাসংলগ্ন ১৭ নম্বর সড়কে। এ সময় ১৭ নম্বর সড়কটি থানার সামনে দিয়ে প্রগতি সরণিতে যুক্ত করার জন্য দুই পাশে গড়ে তোলা স্থাপনাগুলো খালি করে দিতে এর মালিকদের নির্দেশ দেন কর্মকর্তারা। এই অবস্থার মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা আসে।

উচ্ছেদ অভিযানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও তা কী কারণে রদ করা হলো? এমন প্রশ্নে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, ‘অনিবার্য কারণে এই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।’ পরে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট এলাকার লে আউট ম্যাপ নিয়ে মামলা আছে। আইনগতভাবে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর আবার অভিযান চালানো হবে।’

তবে একই প্রশ্নের বিপরীত জবাব পাওয়া যায় রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের কাছ থেকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে আমরা এই এলাকায় ব্যাপক আকারে অভিযান চালাতে চাচ্ছি। কিন্তু আজ (বুধবার) সেই অনুপাতে প্রস্তুতি ছিল না। তাই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।’ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো জটিলতা নেই বলেও জানান তিনি।

রাজউক সূত্র জানায়, ডিআইটি প্রজেক্টের এই অংশে আবাসিক প্লটের সংখ্যা ১২ শর কাছাকাছি। এর মধ্যে হাজারের বেশি প্লটে ইতিমধ্যে বাড়ি উঠে গেছে।

গতকাল দুপুরে অভিযান স্থগিতের ঘোষণার পর এই এলাকার অন্তত তিনটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ভবনের নিচতলায় গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ১০ ও ১১ নম্বর সড়কে এই প্রবণতা বেশি।