যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
ফাইল ছবি

র‍্যাবের বর্তমান ও সাবেক কয়েক কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনলগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে। আমাদের বিশ্বাস, মার্কিন প্রশাসন তাদের এই অযৌক্তিক ও একপেশে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, র‍্যাব একটি এলিট ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ দমনে এই বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়ে কাজ করছে। এ বাহিনীর কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নারায়ণগঞ্জর ঘটনায় এ বাহিনীর অন্তত সাতজন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল। কোনো অভিযোগ থাকলে বাহিনী নিজে কিংবা মন্ত্রণালয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দুদক যেকোনো তদন্তকাজ চালিয়ে যেতে স্বাধীন ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু ঢালাওভাবে অভিযোগ এনে একটি বাহিনীর প্রধান এবং সাবেক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান অযৌক্তিক। মানবাধিকারের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সিদ্ধান্তই একধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন বিভিন্ন সিটিতে রাস্তায় নামে, তাদের অন্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত, এ সিদ্ধান্তের গভীরে বাংলাদেশবিরোধী কিছু ব্যক্তি বা অপশক্তির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আজ মানবাধিকার নিয়ে কথা হচ্ছে। আগে তাদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানাই।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সেখানে দৃশ্যমান বর্ণবাদ বিরাজ করছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছিলেন।

অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার সূচকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার কথা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বারবার উল্লেখ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, খোদ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিকে আমেরিকা সফরে বাধা দেওয়া হয়।