চীন সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু গুরুতর ভুল তথ্য ও যুক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনটির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই ভুল তথ্য ও যুক্তি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।
গতকাল সোমবার সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনকারীরা না জেনে ও সেখানে না গিয়েই আন্দোলন করছেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সত্যের লেশ মাত্র নেই। ২০১০ সাল থেকে তাঁরা ওই এলাকায় যাচ্ছেন। সেখান থেকে নানাভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তা ছাড়া খুলনা ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হলে সুন্দরবনের ধ্বংস অনিবার্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র করায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি, রামপালেও হবে না। সংগঠনটি দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেও সত্যতা নেই। কেননা, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঙ্গের কয়লার খনি আকারে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তা ছাড়া বড়পুকুরিয়ার সঙ্গে রামপালের কোনো তুলনা হয় না। কেননা, বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুত্ উত্পাদন হয় মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট। আর রামপালে উত্পাদনের পরিকল্পনা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তা ছাড়া বড়পুকুরিয়ায় সুন্দরবন নেই। কিন্তু রামপালের কাছে বিপজ্জনক সীমানায় সুন্দরবন।
বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর তথ্য ও যুক্তির ভ্রান্তি বুঝতে পারবেন এবং সুন্দরবন ধ্বংসকারী সব তত্পরতা বন্ধ করে একে বিকাশে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। একই সঙ্গে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিবেশ সমীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন করে জনসম্মতির ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোগ নেবেন।