সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা

৫ মার্চ ২০১৭, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

.

আলোচনা
মতিউর রহমান: মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এ ধরনের আলোচনায় তাঁর উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করে তোলে।
পত্রিকা প্রকাশ আমাদের প্রধান কাজ। এর মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকি। সাংবাদিকতার বাইরে একটি বড় কাজ হলো গোলটেবিল বৈঠক আলোচনা। বিভিন্ন প্রকার সামাজিক ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে গোলটেবিল বৈঠক করে থাকি। এটা আমাদের পরিকল্পনার অংশ।
একটা বিশাল পাঠকসমাজ প্রথম আলো পড়ে। জাতীয় গণমাধ্যমের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী আমাদের ছাপা পত্রিকা পড়ে ৫৩ লাখ মানুষ। অনলাইনে পড়ে ১২ লাখ। দেশ-বিদেশ সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৬৫ লাখ মানুষ প্রথম আলো পড়ে। গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনার বিষয়গুলোও বিশালসংখ্যক পাঠকের জানার সুযোগ হয়। এটা আমাদের সামনের দিকে এগোতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় আছে। এসব বিষয় শুধু সংবাদ বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে শেষ করা যায় না; বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশেষজ্ঞদের মতামত, যুক্তি-তর্ক আমরা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের গোলটেবিল বৈঠক এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আজকের এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে জনসাধারণকে সংযুক্ত ও সচেতন করার একটি প্রয়াস। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেশ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

আব্দুল কাইয়ুম: মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং উপস্থিত আলোচকদের স্বাগত জানিয়ে আজকের আলোচনা শুরু করছি। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের সবার সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য।
ইউএসএইডের হেলথ ফাইন্যান্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট এবং জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সহায়তায় এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এখন আলোচনা করবেন মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মোহাম্মদ নাসিম

মোহাম্মদ নাসিম: সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে, দেশে ১৬ কোটি মানুষ। সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার আরও সহযোগিতা।
অনেকেরই জানা আছে, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আজ এই ক্লিনিকের সংখ্যা ১৪ হাজার। এসব ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় ওষুধ ও সেবা দেওয়া হয়।
মাঝেমধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক দেখতে যাই। সমাজের খুব গরিব মানুষ এখানে আসে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের অনেক সময় শয্যার অভাবে মেঝেতে থাকতে হয়।
এসব নিয়ে অনেক সময় লেখালেখি হয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো, এত রোগীকে সেবা দেওয়ার মতো শয্যা নেই। আবার ফেরতও দিতে পারি না। ৪০ হাজার জনবল নিয়োগ আইনি জটিলতার জন্য আটকে আছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আপনারা লেখেন। কিন্তু এসব করার জন্য যে জনবল প্রয়োজন, সেটা নেই। এসব ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোগ রয়েছে।
ইতিমধ্যে আমরা ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বাস্থ্য খাত এখন ভালো আছে। আজকের আলোচনায় অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন। আপনাদের সুপারিশ ও মতামত আমরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।

হোসেন জিল্লুর রহমান

হোসেন জিল্লুর রহমান: স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেকগুলো অর্জন আছে। িকন্তু স্বাস্থ্য খাতের বাইরে এমন কিছু প্রভাব আছে, যেটা স্বাস্থ্য খাতের ওপর প্রভাব ফেলছে। যেমন জলবায়ুর পরিবর্তন, নগরায়ণ ইত্যাদি।
কমিউনিকেবল ডিজিজ মোকাবিলায় অনেকটা সফলতা অর্জন করেছি। কিন্তু নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এত বিস্তার লাভ করেছে যে এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে।
প্রয়োজনীয় সম্পদের সংকট রয়েছে। কিন্তু সম্পদ যতটুকু আছে, তার সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করতে হবে। এখন প্রযুক্তির ব্যবহার এসেছে। এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানসম্মত সেবা দেওয়া যায়। আবার স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এসডিজির ৩ নম্বরেই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত আজ একটি কৌশলগত অ্যাজেন্ডা। যেমন পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য যদি ভালো থাকে, তাহলে তাঁদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়বে। এটা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দের জন্য দক্ষ নীতিনির্ধারক প্রয়োজন। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য যদি ভালো থাকে, তাহলে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। স্বাস্থ্য খারাপ থাকলে দারিদ্র্য বাড়বে।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য মানুষকে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু এই খাতে ব্যয় কমানোর জন্য সরকারকে আরও জোরদার ভূমিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের তদারকব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। সব ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে স্বাস্থ্য খাতের আরও বেশি উন্নয়ন হবে।

আবুল কালাম আজাদ

আবুল কালাম আজাদ: এনসিডি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ)। ভীষণভাবে স্বাস্থ্য খাতে ঝুঁকি তৈরি করছে। এনসিডি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশ ২০২১ সালের আগেই উন্নত হয়ে যেত। এর জন্য প্রয়োজন অর্থ, দক্ষতা ও অ্যাডভোকেসি।
কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে আমাকে আমার পেশা, নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, গণমাধ্যম—অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। মাঝেমধ্যে ডাক্তারদের সঙ্গে রোগী ও সাংবাদিকদের খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। গণমাধ্যমও এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সর্বজনীন স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে তেমন আলোচনা হচ্ছে না। ফলে অ্যাডভোকেসিটা বাদ পড়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের তহবিলের সংকট আছে। আবার তহবিলের অব্যবস্থাপনা আছে। এক কোটি টাকার গাড়ির টায়ার নষ্ট হলে ওই টায়ার ঠিক করার অর্থ থাকে না। আর টায়ার ঠিক না করার কারণে একসময় সম্পূর্ণ গাড়িটাই নষ্ট হয়ে যায়।
ডিজি অফিসে অনেকগুলো গাড়ি পড়ে আছে। প্রতি গাড়িতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করলে কোটি টাকার গাড়ি কিনতে হবে না। কিন্তু বছরে একটার জন্য ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ করার ব্যবস্থা নেই। কীভাবে সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, এটা তার একটা বড় উদাহরণ। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে স্বচ্ছ না করতে পারলে যতই অর্থ বিনিয়োগ করা হোক, কোনো লাভ হবে না। সর্বজনীন স্বাস্থ্যের কাজকে একটা পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। যেমন হতে পারে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কত শতাংশ মানুষকে এই সেবার মধ্যে আনব; কোন সেবা দিয়ে শুরু করব এবং কোন সেবা দিয়ে শেষ করব ইত্যাদি।

এ ই মো. মহিউদ্দিন ওসমানি

এ ই মো. মহিউদ্দিন ওসমানি: ১৯৯৮ সালের সেক্টর প্রোগ্রামের সঙ্গে এসেনশিয়াল সার্ভিস (অত্যাবশ্যকীয় সেবা) ডেলিভারি প্যাকেজ ছিল। এটিকে আরও সময়োপযোগী করে আগামী সেক্টর প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এখন ৬০ শতাংশ মানুষ মারা যায় নন-কমিউনিকেবল ডিজিজে। এটি মোকাবিলা এবং মা ও শিশুদের সেবা প্রদানের জন্য এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। যতটুকু সেবা দিতে পারব, ততটুকু সেবা এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই সেবা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দিতে চেষ্টা করব। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার প্রথম ধাপ হবে এটা। চতুর্থ সেক্টর প্রোগ্রামের পরিকল্পনা হলো কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে এসেনশিয়াল সেবা দেওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তহবিল, ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে। সেবাকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো. রুহুল আমিন

মো. রুহুল আমিন: ঔষধ প্রশাসন ওষুধ উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দেয় এবং ওষুধের রেজিস্ট্রেশন করে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদন করে। স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদিত ওষুধের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আমেরিকা, ইউরোপসহ ১২৭টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে।
ওষুধের মানসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেই কেবল একটি ওষুধ রেজিস্ট্রেশন পেতে পারে। আমদানি করা ওষুধ রেজিস্ট্রেশনের জন্যও কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৯৯২ সালের একটি নীতিমালার ভিত্তিতে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। মূল্যসনদ পাওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো ঔষুধ প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। মূল্য যদি যুক্তিযুক্ত হয়, তাহলে ঔষধ প্রশাসন মূল্যসনদ ইস্যু করে থাকে।
এখনকার নীতিমালায় ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ২০০৫ সালে ওষুধনীতি হয়েছে। এই ওষুধনীতি ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এর গেজেট নোটিফিকেশন হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ওষুধ হচ্ছে একটা অন্যতম অনুষঙ্গ।

মাহমুদ হাসান

মাহমুদ হাসান: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের হাতের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গেছেন। একটি নামকরা মেডিকেল জার্নাল তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জরুরি নয়।
অনেক দেশ আছে, যাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। তারপরও এসব দেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে গেছে। যেমন থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ঘানা ও রুয়ান্ডার কথা উল্লেখ করা যায়। জাপান ও বিশ্বব্যাংক ২ বছর ধরে ১১টি দেশে একটি গবেষণা করেছে। গবেষণার উদ্দেশ্য, কীভাবে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োগ করা সম্ভব। এ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। ২০১৪ সালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। এই গবেষণামতে বাংলাদেশে অদক্ষ সেবাদানকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের অনুপাতের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরামর্শ আছে। এটা হলো একজন ডাক্তার থাকলে তিনজন নার্স ও পাঁচজন টেকনোলজিস্ট থাকবেন। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আরও অনেক বেশি নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।

এম ইকবাল আর্সলান

এম ইকবাল আর্সলান: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কতগুলো পূর্বশর্ত ও সীমাবদ্ধতা আছে। যেকোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা একটি বড় বিষয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইচ্ছা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসকেরা ভূমিকা রাখলে হবে না; এ ক্ষেত্রে নার্স, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সবাই সবার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। দেশে একটা প্রবণতা হলো, পেশাদার সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পেশাদার সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষণ, আচরণ, অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।
একটা প্যারাসিটামল উৎপাদন করতে ১৫ পয়সারও কম লাগে। এর মধ্যে দুই পয়সার ক্যাফিন দিয়ে এর দাম রাখা হচ্ছে আড়াই টাকা। চিকিৎসার বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রকৃত খরচের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়।
এখন ডাক্তাররা রোগীর কথা না শুনেই অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়ে রোগীর কয়েক হাজার টাকা বের করে ফেলেন। এমন অনেক কারণ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা চালু করার পরও এসব কারণে লক্ষ্যপূরণ না-ও হতে পারে।

রুমানা হক

রুমানা হক: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে সঠিক সময়ে ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ, যন্ত্রপাতি—সবই ঠিকভাবে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটা কার্যকর পরিকল্পনা করতে হবে। সেবাদানকারীদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। অনুপ্রাণিত করার জন্য বেতন-ভাতা একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। রোগীদের জন্য শয্যার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, কোথাও কম। এ জন্য সমহারে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া দরকার। বর্তমান সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ভালো কাজের প্রণোদনা ও মন্দ কাজের শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটাও চিন্তা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যাঁরা উন্নয়ন তহবিল থেকে বেতন-ভাতা পান, তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে। তাঁরা আরও ভালো কাজের খোঁজে থাকেন। একসময় চলে যান। কিন্তু ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য অনেক বিনিয়োগ হয়ে যায়। তাই তাঁদের রাজস্ব খাতে নেওয়ার জন্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নাদিয়া ইশরাত আলমগীর

নাদিয়া ইশরাত আলমগীর: বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট (এইচইইউ), হিউমান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইউনিটসহ (এইচআরডি) অন্যান্য বিভাগের নেতৃত্বে তৈরি করা বিভিন্ন কৌশলপত্র যেমন হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি, হেলথ ওয়ার্কফোর্স স্ট্র্যাটেজির যথাযথ বাস্তবায়নে অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তায় এই কৌশলপত্রগুলোর বাস্তবায়ন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনমত তৈরি ও ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করতে সহায়তা করবে।

মো. শাহ আলমগীর

মো. শাহ আলমগীর: পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) পক্ষ থেকে সর্বজনীন স্বাস্থ্যের বিষয়ে কিছু কাজ করেছি। এটি একটি নতুন ধারণা। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে, অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী ও ডাক্তারের মধ্যে এ বিষয়ে ধারণা নেই। কোন হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ওষুধ নেই, অবকাঠামো নেই—এসব প্রতিবেদন গণমাধ্যমের কর্মীরা প্রায়ই করে থাকেন। তবে এটি কোনোভাবেই সর্বজনীন স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন নয়।
প্রথমত, সর্বজনীন স্বাস্থ্যের ধারণা ডাক্তার ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা প্রয়োজন। আমরা পিআইবি থেকে একটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সর্বজনীন স্বাস্থ্য িবষয়ে বেশ িকছু কাজ করেছি। যেমন গত এক বছরে বিভিন্ন টেলিভিশনে ২৪টি টক শো, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কী, এটি জানার জন্য স্বাস্থ্য সন্ধান নামে সংবাদকর্মীদের জন্য একটি সহায়ক বই, ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ বিষয়ে পরামর্শ সভা, সারা দেশে ১২টি কর্মশালা ও ১১ জন সাংবাদিককে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়েছি।
সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। আন্তরিকতা ও সততা নিয়ে প্রায় সব পেশার মধ্যেই প্রশ্ন আছে। কিন্তু কাজটি যাঁরা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁদের আন্তরিক ও সৎ হওয়া প্রয়োজন। এক হিসাবে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে। বাংলাদেশেও ৪ শতাংশ মানুষ এই অবস্থার শিকার হয়।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মূল বিষয় কী? মূল বিষয় হলো প্রতি মাসে বিমার জন্য কিছু পরিমাণ টাকা দেওয়া। রোগে আক্রান্ত হলে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া। বিষয়টির মধে্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

হোসেন ইশরাত আদিব

হোসেন ইশরাত আদিব: স্বাস্থ্যব্যবস্থার বহুমাত্রিকতা এবং গুরুত্ব বিবেচনায় অন্যান্য খাতসমূহ যেমন কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিমা এবং বেসরকারি খাতসমূহের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে গবেষণার পরিধির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এ দেশে তরুণ গবেষকদের মধ্যে এই বিষয়ে অনেক আগ্রহ আছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ ব্যয় হয় গবেষণার জন্য। বাংলাদেশে অনেক বছর ধরে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে স্বেচ্ছামূলকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক বিমার বিষয়টি প্রয়োজন। এ ছাড়া বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ খাতে নিবন্ধিত পরিবারের সংখ্যা ৩ কোটির বেশি, যাদের সঞ্চয়কৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এ দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে স্বাস্থ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। যেসব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর প্রায় প্রতিবছরই বাৎসরিক উদ্বৃত্ত থাকে। এমন নীতি থাকা প্রয়োজন যেন এই প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাহকদের বিমার আওতায় আনে।

শাকিল আহমেদ

শাকিল আহমেদ: আমরা হেলথ পপুলেশন নিউট্রিশন সেক্টর প্রোগ্রামে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এখন আর্থিক উপকরণ নিয়ে কাজ করছি। এটা হবে আইপিএফ বেজড ডিএলআই (ডিসবার্সমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর)।
প্রাথমিকভাবে ২১টি ডিএলআই নির্ধারণ করেছি। ডিএলআই অর্জনের মাধ্যমে টাকা ছাড় দেওয়া হবে। অন্যান্য দাতা সংস্থার সঙ্গে কাজ করে মাল্টিডোনার ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে। হেলথ পপুলেশন নিউট্রিশন সেক্টর প্রোগ্রামে মোট বাজেট হলো ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখানে উন্নয়ন বাজেট ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি।
দাতা সংস্থাগুলো কতটুকু দিতে পারবে, এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত না। সত্যিকার অর্থে যদি ইএসপি (এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ) চালু করতে চাই, আমাদের অনেক সম্পদের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করছি।

মিরান্ডা বেকম্যান

মিরান্ডা বেকম্যান: সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উন্নয়ন–সহযোগীরা করণীয় নিয়ে ভাবছে। এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, এটা একটা বৈশ্বিক ব্যাপার। সেবার মানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সেবার মান সেবার চাহিদা তৈরি করবে। যখন অনেক বেশি মানুষ সেবার সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক দক্ষ হতে হবে। অত্যাবশ্যকীয় সেবার ক্ষেত্রে ইউএসএআইডি সহযোগিতা দেবে।
বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অন্যান্য উন্নয়ন–সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা কীভাবে সরকারকে সহযোগিতা করব, সেটা নিয়েও আলোচনা হবে।
অনেক ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দেখতে হবে, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আগে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাব।

মুসলিম চৌধুরী

মুসলিম চৌধুরী: প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান, সরকার, উন্নয়ন–সহযোগী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ—সবার প্রচেষ্টায় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।
সরকার, এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এ ক্ষেত্রে অর্থের জোগান আসবে। তবে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে কিছু কৌশলগত বিষয় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যবহারের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থপ্রাপ্তির যে গতানুগতিক পদ্ধতি, সেটা মানতে গেলে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গেই স্বাস্থ্যসেবার বিষয় ভাবছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য এখন আর একটা খাত নয়। এটা হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যম। রাজস্ব খাত ও উন্নয়ন খাতের লোকবলের মধ্যে পার্থক্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা প্রয়োজন।
উন্নয়ন খাতের সেবাদানকারী এমন একটা চাকরি খুঁজতে থাকেন, যেখানে তাঁর চাকরির নিশ্চয়তা আছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাত, উন্নয়ন–সহযোগী—সবার মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে।

মোহাম্মদ নাসিম: দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের অনেক সম্পদের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেক অর্জন আছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট সবাই ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেই এই অর্জন সম্ভব হচ্ছে। আমরা মডেল ফার্মেসি করেছি।
আমাদের অনেক তরুণ ফার্মাসিস্ট আছেন। তাঁদের কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য আমরা মডেল ফর্মেসির উদ্যোগ নিয়েছি। কোথাও ভালো জিনিস থাকলে মানুষ সেখানে যাবেই। তৃণমূলে কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতালের মাধ্যম সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছি।
আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব হাসপাতালে ১০০ শয্যা ছিল, সেখানে ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা করেছি। আগে ১০০ জন রোগীর খাবার খাওয়ানো হতো প্রায় ২৫০ জনকে। ২৫০ জনেরই খাবারের ব্যবস্থা করেছি। গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা থাকলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ইতিমধে্য ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন উপজেলা অফিসার, কৃষি অফিসার, তাঁরা গ্রামে থাকেন। ডাক্তারও সরকারি অফিসার, তাঁদেরও গ্রামে থাকতে হবে।
প্রাইভেট হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—এসব এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। একজন রোগীর যে পরীক্ষাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ টাকায় হয়, সেটা কোন যুক্তিতে প্রাইভেট হাসপাতালে ১০০ টাকা নেয়? সীমাহীন অনিয়মের জন্য চারটি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করেছি। দক্ষ নেতৃত্বের জন্য ঝিনাইদহ, শৈলকুপা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ—এসব হাসপাতাল অনেক ভালো চলছে। সিভিল সার্জনদের দক্ষ নেতা হতে হবে। সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। সংশ্লিষ্ট সবাই চেষ্টা করলে, গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা থাকলে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারব।

আব্দুল কাইয়ুম: স্বাস্থ্য খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই খাতে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব হবে বলে আশা করি। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সফলতা অর্জন করতে পারব। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

আলোচনায় সুপারিশ
* বাংলাদেশে এখন নন–কমিউনিকেবল ডিজিজ ভীষণ দুশ্চিন্তার কারণ। এর বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
* একজন উপজেলা অফিসার, কৃষি অফিসার, তাঁরা গ্রামে থাকেন। ডাক্তারও সরকারি অফিসার, দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে তাঁদের গ্রামে থাকা জরুরি
* সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আরও অনেক বেশি ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে
* চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসে। চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর উদোগ গ্রহণ জরুরি

যাঁরা অংশ নিলেন 
মোহাম্মদ নাসিম : সাংসদ; মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
আবুল কালাম আজাদ : মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ অধিদপ্তর
হোসেন জিল্লুর রহমান : নির্বাহী পরিচালক, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন 
রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) 
মুসলিম চৌধুরী : অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় 
মাহমুদ হাসান : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন
এম ইকবাল আর্সলান : সভাপতি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ; ডিন, ফ্যাকাল্টি অব বেসিক 
সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স, বিএসএমএমইউ
রুমানা হক : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
মো. রুহুল আমিন : পরিচালক (সিসি), ডিরেক্টর জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
মিরান্ডা বেকম্যান : উপপরিচালক, পপুলেশন হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড 
এডুকেশন ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ 
শাকিল আহমেদ : সিনিয়র হেলথ ইকোনমিস্ট, বিশ্বব্যাংক
মো. শাহ আলমগীর : মহাপরিচালক, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)
এ ই মো. মহিউদ্দিন ওসমানি : জয়েন্ট চিফ, প্ল্যানিং উয়িং, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
হোসেন ইশরাত আদিব : হেড অব এডুকেশন, জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব 
পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
নাদিয়া ইশরাত আলগীর : সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় 
সূচনা বক্তব্য
মতিউর রহমান : সম্পাদক, প্রথম আলো 
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো