সাঁকো নড়বড়ে, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

সংস্কারের অভাবে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা এলাকায় বুড়ি ভৈরব নদীর ওপরে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকোটির পাটাতন ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো
সংস্কারের অভাবে নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা এলাকায় বুড়ি ভৈরব নদীর ওপরে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকোটির পাটাতন ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো

সংস্কারের অভাবে নড়াইল সদর উপজেলার আফরা এলাকায় বুড়িভৈরব নদের ওপরের বাঁশ ও কাঠের সাঁকোটির পাটাতন ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এতে নড়াইল ও যশোরের ২৮ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, চার বছর আগে শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা ব্যক্তিগতভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ১০০ ফুট লম্বা ও ২০ ফুট চওড়া ওই সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এটি দিয়ে নড়াইল সদরের তপনবাগ, শেখহাটি, পঁচিশা, ডহর শেখহাট, শেখপাড়া, কাইজদাহ, আফরা, মান্দিয়া, গুয়োখোলা, মান্দিয়ারচর, হাতিয়ারা, বাকলি, মালিয়াট, নগরদিয়া, তুলারামপুর, চর তুলারামপুর, পেড়লী, গাবতলা ও চাঁচড়া, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাকড়ী, ঘোড়ানাছ, কমলাপুর, দোগাছি, পশ্চিম আফরা, জগন্নাথপুর, সদুলাপুর, গাইদগাছি ও ভিটাবলা গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। প্রায় আট-নয় মাস আগে সাঁকোটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে নড়বড়ে হয়ে গেছে।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোর কাঠ ও বাঁশের পাটাতনের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। কংক্রিটের একটি পিলার হেলে পড়েছে। লোকজন উঠলেই সাঁকোটি দুলতে শুরু করে। শেখহাটি ইউপির চেয়ারম্যান কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই পাটাতনের বিভিন্ন স্থান দড়ি দিয়ে বেঁধে দিচ্ছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন।
আফরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুবনা ইয়াসমিন জানায়, আগে স্কুলে যেতে দুটি নৌকা পার হতে হতো। সাঁকোটি করে দেওয়ার পর থেকে আর নদী পার হতে হয় না। কিন্তু এখন এটি নড়বড়ে হয়ে গেছে।
শেখহাটি ইউপির চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ নদী পারাপারে দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন। শেখহাটি এলাকার অনেক শ্রমিককে পাশের যশোরের নওয়াপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকায় শিল্পকারখানায় কাজ করে অনেক রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় তাঁদের আর নৌকার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না। চার বছর আগে দুই লাখ টাকা খরচ করে পারাপারের জন্য প্রথমে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে পাটাতন তৈরি করা হয়। পরে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে কয়েকটি পিলার বসিয়েছি। কিন্তু পাটাতনের বাঁশ ও কাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের যাতায়াতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। গত অক্টোবরে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নড়াইল অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সাঁকোটি মেরামতের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি।’
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোতালেব বিশ্বাস বলেন, সাঁকোটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এটি মেরামতের জন্য গত বছর মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সাঁকোটির কাজে বাধা থাকবে না।