সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে ভুল বানানের ছড়াছড়ি লক্ষ করা গেছে। এগুলো দেখে শিশু-কিশোরেরা ভুল বানান শিখছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। অনেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
পাঁচটি উচ্চবিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষক বলেন, এসব সাইনবোর্ড দেখে শিশুরা ভুল বানান শিখছে। শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বানানের প্রতি যত্নবান করলে ভবিষ্যতে সুফল পাওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল আখতার বলেন, মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই শুদ্ধতার চর্চা করতে হবে। এ জন্য সবাইকে ভাষা ব্যবহারে যত্নবান হতে হবে।
গত চার দিনে উপজেলার ধানগড়া, চান্দাইকোনা, ব্রহ্মগাছা, পাঙ্গাসী, ঘুড়কা, ভুইয়াগাঁতী, সলঙ্গাসহ ১০টি বাজারের পাঁচ শতাধিক সাইনবোর্ডে ভুল বানান দেখা গেছে। বেশ কিছু সাইনবোর্ডে উপজেলার নাম লেখা হয়েছে ‘রায়গনজ’। এ ছাড়া ঘুরকা, সলংগা, লক্ষীকোলা, ভুইয়াগাতিসহ বিভিন্ন এলাকার নাম ভুল বানানে লেখা হয়েছে। বিভিন্ন সাইনবোর্ডে নিয়ন্ত্রীত, শ্রেনী, উপজাতী, চাঁদর বেনারশী, ব্যাথা, শাড়ী, তৈরী, ফেরৎ, স্বর্ন, সার্টপিচ, বেডশীট, বেডসীডসহ হাজারো ভুল বানান লেখা হয়েছে। বাড়ির সামনে ঝোলানো আছে ‘বাঁসা ভাড়া দেওয়া হবে’—এমন সাইনবোর্ডও।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০ জন মালিক বলেন, সাইনবোর্ড লিখিয়েরা এসব নামধাম লিখে দেন। ভুল-শুদ্ধ তাঁরাই ভালো জানেন।
ধানগড়া বাজারের সাইনবোর্ড লেখক হাবীব সরকার বলেন, ‘মালিকেরা যেভাবে লিখে দেন, আমরা সেভাবেই লিখি। বানানের ভুল ধরলে অনেকে “মাইন্ড” করেন।’ সোহেল সরকার বলেন, ‘আমরা ভুল দেখলেও সংশোধন করার সাহস পাই না। ভুলের কথা বললে লোকজন কাজ দেওয়া বন্ধ করে দেবেন। লোকজন যেভাবে চান আমরা সেভাবে লিখে দেই।’
চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুহ. শামসুল হক বলেন, ‘প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। কিন্তু ভাষার শুদ্ধ ব্যবহারে আমরা চরমভাবে উদাসীন। ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার।’
নিমগাছী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, মায়ের ভাষা বলেই অনেকে বাংলা ভাষার প্রতি আন্তরিক নন। ফলে চারদিকে ভুলের ছড়াছড়ি। ভুল বানানের জন্য বিভিন্ন স্থানে লাগানো সাইনবোর্ডগুলোর দিকে তাকানো যায় না।