রায়ের খসড়া ফাঁসের মামলার রায়

সাকা চৌধুরীর স্ত্রী-ছেলে খালাস, আইনজীবীসহ পাঁচজনের সাজা

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের খসড়া ফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে বেকসুর খালাস এবং তাঁর আইনজীবীসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
রায়ে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা খাটতে হবে। সাকা চৌধুরীর ম্যানেজার মাহবুবুল হাসান, ফখরুল ইসলামের সহকারী জুনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী ফারুক আহমেদ ও নয়ন আলীকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর কার্যকর হয়।
গতকাল রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা ফারহাত কাদের চৌধুরী আদালতে হাজির ছিলেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী আদালতে হাজির ছিলেন না। কারাগারে আটক আইনজীবী ফখরুল ইসলামসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি মেহেদী হাসান মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। হুম্মামের পরিবারের অভিযোগ, গত আগস্ট মাসের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা অস্বীকার করেছে।
রায় ঘোষণার পর সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দিয়েছেন আদালত। তিনি বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায়ের আগেই তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় পরদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।