১০ মামলার আসামি সন্ত্রাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে এক ব্যক্তির স্বেচ্ছায় কারাভোগের ঘটনায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) মামলা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী এ মামলা করেন।
গতকাল প্রথম আলোর ১৭ পৃষ্ঠায় ‘টাকার বিনিময়ে কারাভোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আসায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ও খুলশী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।’
গত বছরের ২২ মে নগরের খুলশী থানার একটি হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি শাহ আলম ও মাসুদ কামাল ওরফে কিলার কামাল উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নুরে আলম ভূঁইয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু কিলার মাসুদের পরিবর্তে নগরের লালখান বাজার এলাকার গাড়িচালক হুমায়ুন কবিরকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কিলার মাসুদ সাজিয়ে আত্মসমর্পণ করানো হয়। কথা ছিল, এক দিন পর কিলার মাসুদ সেজে কারাগারে থাকা হুমায়ুন কবিরকে মুক্ত করা হবে। দুই দিনের মাথায় কারাগার থেকে মুক্তি না পেয়ে হুমায়ুন কবির বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। মামলার প্রকৃত আসামি কিলার কামাল প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন আর হুমায়ুন কারাগারে রয়েছেন।
মামলার আরজিতে বিচারক প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। আদেশে উল্লেখ করেন, টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তির স্থলে অপরকে আত্মসমর্পণ করানোর বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন। জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে আরও তদন্তের প্রয়োজন। তাই ১৮৯৮-এর ১৯০ (১) সি ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মিস মামলা দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ককে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হলো। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম, নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিশন) ও নগরের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হলো।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির প্রকৃত আসামি নন জেনেও তাঁকে আত্মসমর্পণ করানো, জামিনের আবেদন করায় কৌঁসুলিকে এবং মামলার বাদী জহির হোসেনের সঙ্গে জামিনে যেতে আপসের কথা উল্লেখ থাকায় বাদীকেও যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।