জেএমবি সদস্য ছিনতাই

স্ত্রীর পর এবার জাকারিয়ার শ্বশুর গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহূত গাড়িচালক জাকারিয়ার স্ত্রীর পর তাঁর শ্বশুরকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে শ্বশুর সাব্বির আহামেঞ্চদকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
সাব্বির আহাম্মেদ ওরফে নয়ন সরকার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। সাব্বির ঢাকার গাবতলী বন্দরে লঞ্চের মালামাল লোড-আনলোডকারী কুলিদের সরদার।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সকাল থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার একটি পরিবহন কোম্পানির যাত্রীবাহী বাস থেকে সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে শামীম হোসেন নামে সাত বছরের একটি ছেলেকেও পাওয়া যায়। সাব্বিরের একটি কাপড়ের ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির পুলিশকে জানান, তিনি ওই এলাকায় কুলিদের সরদার হিসেবে কাজ করেন। শিশু শামীম হোসেন কুলিদের বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করে। আর গাড়িচালক জাকারিয়া তাঁর বড় মেয়ে স্বপ্না আক্তারের স্বামী।
গত রোববার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের আসামি আনা-নেওয়ার (প্রিজন ভ্যান) একটি গাড়িতে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। ঘটনার পর ওই দিন দুপুরেই টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে জাকারিয়া ও রাতে টঙ্গীর গাজীপুরা থেকে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাব্বিরকে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, জাকারিয়া গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া সাব্বির আহাম্মেদের ভাগনে হন। দেড় বছর আগে এই ভাগনের সঙ্গেই তিনি তাঁর মেয়ে স্বপ্নাকে বিয়ে দেন। জাকারিয়া জেএমবি ইস্যুতে করা মামলায় ২০০৪ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পাঁচ বছর ১০ মাস জেল খেটে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর অসুস্থ বোনের (জাকারিয়ার মা) অনুরোধেই জাকারিয়ার সঙ্গে স্বপ্নাকে বিয়ে দেন সাব্বির।