করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুনেই ফোন বন্ধ করে বাসা থেকে পালানো বগুড়ার ফুলতলা এলাকার সেই ব্যক্তির স্ত্রীর বড় বোনেরও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।
ওই ব্যক্তির স্ত্রীর বড় বোন বগুড়া বক্ষব্যাধী হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স। গতকাল বুধবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষায় এই নার্সসহ বগুড়ার মোট পাঁচজনের কোভিড–১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ল্যাবে গতকাল বগুড়ার ১৬০টি, জয়পুরহাট জেলা থেকে আসা ২৩টি, গাইবান্ধার দুটি, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও গাজীপুর জেলা থেকে আসা একটি করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বগুড়ার পাঁচজন এবং জয়পুরহাটের একজনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন বলেন, বগুড়ায় করোনাভাইরাস শনাক্ত পাঁচজনের মধ্যে একজন বগুড়ার বক্ষব্যাধী হাসপাতালের নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁর বয়স ৩২ বছর। বাসা বগুড়া পৌরসভার উপশহর এলাকায়।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী বাসা থেকে পালানো বগুড়ার ফুলতলা এলাকার সেই ব্যক্তির স্ত্রীর বড় বোন। ফুলতলার বোনের বাসায় যাতায়াত ছিল তাঁর। ওই ব্যক্তির ২৮ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। তিনি রাজধানীতে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী। ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে বগুড়ার ফুলতলার বাসায় ফিরেন। ঢাকা ফেরত হওয়ায় ২৬ এপ্রিল তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে গিয়ে নমুনা দেন। করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর মুঠোফোনে তাঁকে বিষয়টি জানানো হলে আইসোলেশনে নেওয়ার আগেই মুঠোফোন বন্ধ করে তিনি পালিয়ে যান। গত বুধবার রাত নয়টায় বগুড়া সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে পুলিশ। পরে সেখানেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় তাঁকে। ৫ মে ওই ব্যক্তির ১২ বছরের শিশু সন্তান এবং ১ মে স্ত্রীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাঁর স্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ নার্স।
ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, গতকালের নমুনা পরীক্ষায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ঢাকাফেরত এক চাকরিজীবী (৫৪) এবং শহরের বৃন্দাবনপাড়া এলাকার ঢাকাফেরত একই পরিবারের তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে।
ওই তিনজনের একজন (২০) মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তিনজনই রাজধানীর একটি বায়িং হাউসে এমব্রয়ডারির কাজ করেন। গত ৪ মে তাঁরা বগুড়ায় ফিরে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দেন। গতকাল রাতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাঁদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি এক রোগীর নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে।