মা-বাবা মারা গেছেন প্রায় দেড় যুগ আগে। একমাত্র ভাই দিনমজুরের কাজ করেন। অভাব–অনটনে তাঁর সংসার চলে টেনেটুনে। বোনকে দেখার সুযোগ কোথায়। বোনও কিছুটা পাগলের মতো, বিয়ে হয়নি। বয়স ৫০ বছর পেরিয়েছে। নেই কোনো নিজস্ব জমি বা থাকার ঘর। সারা দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষার পর রাত কাটান পাশের বাড়ির এক বারান্দায়।
এ অবস্থা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাশিল গ্রামের রঙ্গিলা আক্তারের। গত শনিবার স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও ভালুকা উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়। রঙ্গিলাকে পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক মিয়া নিজে রিকশা ভাড়া দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসেন। তাঁর হাতে দুটি ছাগল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রঙ্গিলা বলেন, ‘থাহার জাগা নাই, ছাগল রাহাম (রাখব) কই।’
ভালুকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক মিয়া জানান, ওই নারীকে দেখার মতো কেউ নেই। একমাত্র ভাই আছেন, অভাব–অনটন তাঁর সংসারেও। তিনি কোনো খোঁজ নেন না। ওই নারী সারা দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান, আর রাত কাটান আরেক বাড়িতে। রঙ্গিলার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এর জন্য পরিষদ থেকে কোনো সরকারি কার্ড বা ভাতা দিতে পারছেন না তাঁরা।
এ সময় অন্তত ১৩ জন ভিক্ষুকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের বেশির ভাগের থাকার নিজস্ব জায়গা নেই। শুধু চারজনের একখণ্ড জমি আছে। তবে ঘর করার মতো টাকা নেই। তাঁরা অন্যের বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এখন তাঁদের যে দুটি করে ছাগল দেওয়া হলো, তা নিয়ে কোথায় রাখবেন তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অসহায় নারী রঙ্গিলাকে নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই নারীর থাকার কোনো জায়গা না থাকলে সরকারি জমিতে একটি বাড়ি করে দেওয়া হবে। তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১০৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা
হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জনকে ছাগল, আটজনকে চায়ের দোকান, পাঁচটি ভ্যানগাড়ি ও দুজনকে নিজস্ব জমিতে থাকার ঘর করে দেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় সাংসদের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে শাড়ি ও লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে।
এ সময় সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভার
আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংসদ কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রশিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মা, ভালুকা মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন প্রমুখসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।