
রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকার দক্ষিণ বারিধারা আবাসিক এলাকাটি ‘ডিআইটি প্রজেক্ট’ নামেই বেশি পরিচিত। এলাকার ১৫টি সড়কের একটি বাদে প্রতিটি সড়কেরই বেহাল অবস্থা। দেখলে মনে হয় যেন গ্রামের কোনো মেঠো পথ। সড়কের এমন অবস্থায় এক বাসিন্দার মন্তব্য, ‘আমরা যেন রাজধানীর ভেতরেই ছিটমহল।’
গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কগুলোর মাঝে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে আছে। আবাসিক এলাকার ভেতরে ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন চলে না। ফুটপাতহীন সড়কগুলোয় চলাচল করতে এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকার ১০ নম্বর সড়কের মুখেই আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার। বৌদ্ধবিহার সড়কটি এবড়োখেবড়ো। এলাকার লোকজন সড়কের গর্তগুলোতে ইট বিছিয়েছিলেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেগুলো সরে গিয়ে আবারও গর্ত বেরিয়ে পড়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই শেষ কবে পিচ ঢালাই হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফকরুল আহমেদ বলেন, একটি আবাসিক এলাকার রাস্তা এত খারাপ যে ভেতরে রিকশা আসে না। রাস্তাঘাট দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি ঢাকা শহরের ভেতরের এলাকা। প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই কাদাপানি মাড়াতে হয়।
এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। সরতে চায় না। আর সড়কের গর্তগুলোতে জমে থাকা কাদাপানি কয়েক দিন ধরে রয়েছে।
দক্ষিণ বারিধারা প্লট মালিক কল্যাণ সমিতি ট্রাস্টের দেওয়া তথ্যমতে, ডিআইটি প্রজেক্টে ৮০০-এর বেশি হোল্ডিং রয়েছে। আর এখানকার বাসিন্দার সংখ্যা ৪০ হাজারের মতো।
সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে থাকছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নেই বললেই চলে। মসজিদে যেতে মুসল্লিদের ময়লাপানি মাড়াতে হচ্ছে। এলাকার মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় দিন পার করছে।
বাড্ডা এলাকার কিছু অংশ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু অংশ বাড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দক্ষিণ বারিধারা আবাসিক এলাকাটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সিটি করপোরেশনকে এখনো
বুঝিয়ে দেয়নি।
হারুন অর রশিদ বলেন, রাস্তাগুলোর বিষয়ে একাধিকবার রাজউককে জানানো হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এলাকায় অন্যান্য সুযোগসুবিধা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে কেউ বাসা ভাড়া নিতে চায় না।
এ বিষয়ে ডিআইটি প্রজেক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজউকের প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এই প্রকল্পটি অনেক পুরোনো। এ এলাকার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তারা বুঝে নিতে চাচ্ছে না। রাস্তাগুলো মেরামত করে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি দাবি করেন, এ রাস্তাগুলো মেরামত করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন আছে।
ডিআইটি প্রকল্প এলাকায় স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ ১৫টির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। দেখা যায়, সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের সামনে সড়কে বড় বড় গর্ত, পানি জমে আছে। তা মাড়িয়েই শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা-যাওয়া করছে।
এ স্কুলের শিক্ষার্থী আদনান রহমান বলেন, ‘এ এলাকার ৪ নম্বর সড়কে আমার বাসা। সে রাস্তার অবস্থা খারাপ, স্কুলের সামনের রাস্তা আর যে পথে আসি সেগুলোর অবস্থাও খারাপ। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ায় কষ্ট করতে হয়।’