বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলের সময় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলের সময় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

ঢাকা মেডিকেলকে বাইরে থেকে যত খারাপ শুনি, তত কিন্তু খারাপ না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে বাইরে থেকে যতটা খারাপ শোনা যায়, আসলে ততটা খারাপ না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে সকালে ভিজিটে (পরিদর্শন) গিয়েছিলাম। আমরা আসলে বাইরে থেকে যতটা খারাপ শুনি, ততটা খারাপ না।’

আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের সম্মানে এ দোয়া ও  ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১২০ বছরের পুরোনো হাসপাতাল উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রায় আটটি ওটিতে ঢুকেছি। ওটিতে ঢুকে মনে হয়নি যে এগুলো ওটি। অর্থাৎ আমি জিজ্ঞেস করেছি এটা কী রুম? বললে ওটি। এত আগের। সেই তখনকার ধাচে যে ওটি করা হলো। বাট নিট অ্যান্ড ক্লিন (পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন)। তেলাপোকার সংখ্যা কম, ছারপোকা নেই, খাবারদাবার নিয়ে রোগীদের জিজ্ঞেস করেছি, ভালো; তবে অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে; গার্বেজ সমস্যা, লন্ড্রির সমস্যা—অনেক কিছু সমস্যা আছে, এগুলো আমাদের দূর করতে হবে।’

একটি ওটির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ওটি দেখেছি, যেটি একটি বিশেষ বিজনেস গ্রুপ করে দিয়েছে ৭৫ লাখ টাকা খরচ করে; সে ওটিতে ঢুকে মনে হয়নি যে এটা বাংলাদেশের কোনো ওটি। এত সুন্দর।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে এবং কিছু বিজনেস মহলের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আপনারা যাঁরা সম্মানিত ডাক্তারগণ আছেন, আপনাদেরও অনেক কানেকশন আছে।  অন্তত যে ওটিগুলো আছে, বাংলাদেশে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের বললে তাঁদের নিজের সৌজন্যে একেকটা এ রকম ওটি আমাদের করে দিতে পারেন। আপনারা দয়া করে সেটা বলবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে কেউ প্রভাব ফেলছেন না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন,  ‘আজকে আমি আরও আনন্দিত। অনেকে মনে করেছেন যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) খেয়ে ফেলবে। না, আমি তো প্রায় ১২ থেকে ১৪ দিন হলো বসলাম। কোনো প্রভাব আমাদের কার্যক্রমে কেউ ফেলছে না। আমি ডাক্তারদের সব মহলকে, আমাদের নেতৃবৃন্দকে অন্তর অন্তস্তল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি সে জন্য। আমরা ডাক্তারদের সব সুযোগ–সুবিধার দিকে ঠিকঠাক দৃষ্টি দেব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে “সবার আগে স্বাস্থ্য” এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আজ একটা মিটিং হয়েছে। সেখানে অনেকগুলো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণে স্বাস্থ্যসেবাকে পাবলিকের ডোর স্টপে কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, কীভাবে আরও ভালো সার্ভিস দেওয়া যায়, আরও ডাক্তার নিয়োগ করা যায়—সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাঁরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, ইনশা আল্লাহ সময় এসেছে আগামী দিনে আপনাদের এই নির্যাতন-নিপীড়ন কীভাবে দূর করা যায়, প্রতিকার করা যায় এবং সর্বোপরি যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে সবার আগে মনে রাখতে হবে, আমাদের নেতা যেমন বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”। আপনাদেরও মনে রাখতে হবে যে সবার আগে চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশা, হাসপাতাল তথা মানুষের সেবায় আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে।’

এতে আরও বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল আলম, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম প্রমুখ।

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত রোগী ঢাকা মেডিকেলে সেবা নিতে আসেন। অনেক সময় একই বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি, অ্যানেস্থিয়ালজিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সহায়ক জনবল কম—এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন।’

অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ঘুরে দেখে মন্ত্রী বলেন, কাঠামোগত দিক থেকে ওটিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশির ভাগ ওটির মানোন্নয়নের প্রয়োজন আছে।