
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার এ মামলায় দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাক্ষীদের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গুলিতে এক পা হারানো মো. ইমরান হোসেন (৩৩) বলেন, ঘটনার দিন তিনি দেখেন, হেলমেট পরা কিছু লোক ও কিছু পুলিশ গুলি করতে করতে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। ওই সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে একটি গুলি এসে তাঁর ডান পায়ে লাগে। পরে এই পা কেটে ফেলতে হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় আজ প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মো. ইমরান হোসেন। দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মো. কামাল হাওলাদার।
এই মামলার দুই আসামি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জবানবন্দিতে প্রথম সাক্ষী ইমরান হোসেন বলেন, তিনি এ-ওয়ান পেস্ট কন্ট্রোল নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৪টায় অফিসের কাজে মিরপুর-১১ নম্বরের আলফালাহ ব্যাংকে যান। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় গন্ডগোল ও গোলাগুলি হচ্ছে জেনে একটু দেরি করে বের হন। একপর্যায়ে দেখতে পান, অনেক ছাত্র-জনতা মিরপুর-১০ নম্বরের দিকে যাচ্ছেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পার হওয়ার জন্য রওনা দেন।
ইমরান হোসেন বলেন, ১০ নম্বর গোলচত্বর পৌঁছাতেই দেখেন, হেলমেট পরা কিছু লোক ও কিছু পুলিশ গুলি করতে করতে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। ওই সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে একটি গুলি এসে তাঁর ডান পায়ে লাগে। তিনি অজ্ঞান হয়ে ঘণ্টাখানেক সেখানে পড়ে ছিলেন। জ্ঞান ফিরলে দুজন লোক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। মোট ৩২ দিন তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট তাঁর একটি পা কেটে ফেলা হয়।
জবানবন্দিতে তাঁর এ অবস্থার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দায়ী করেন ইমরান হোসেন।
দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে কামাল হাওলাদার বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে তিনি ও তাঁর ছেলে সিফাত মিরপুর–১০ নম্বর এলাকায় কাঁচাবাজার করতে আসেন। সে সময় তিনি একটি ছোট টংদোকানে সিগারেট খেতে যান। আর তাঁর ছেলে মিরপুর-১০ নম্বরে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেয়। তিনি একপর্যায়ে আওয়াজ শুনতে পান। হঠাৎ শুনতে পান যে সিফাত গুলি খেয়েছে। তিনি দৌড়ে সেখানে যান। দেখতে পান, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামাল হাওলাদার তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের দায়ী করেন। তাঁর ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।