
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন মাদ্রাসাটির তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। এ ছাড়া এ মামলায় হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি খালাস চেয়ে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আজ বুধবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে চারজনের আপিল দায়ের করার তথ্য জানিয়েছেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যে তিন আসামি লিভ টু আপিল করেছেন, তাঁরা হলেন জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
আলোচিত ওই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের ও উম্মে সুলতানার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
আজ ব্রিফিংয়ে চার আসামির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। ১০ জনই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আর ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁর মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং যে চারজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে জুবায়ের, পপি ও জাবেদের পক্ষ থেকে আমরা আপিল দায়ের করেছি।’