
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কেক কাটার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার। ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেছেন, এমন মিথ্যা খবর ছড়িয়ে জিয়াউল আহসানের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা হচ্ছে। তিনি এর প্রতিকার চান।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজকে একজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। এই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালকে এ কথা বলেন। মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।
পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, গতকাল তিনি জানতে পেরেছেন, কেক কাটা নিয়ে একটা তদন্ত হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট কেক কাটার একটা ঘটনা ঘটেছে। কে কেটেছে, কারা ঘটিয়েছে—এই সম্পর্কে তাঁর ধারণা নেই। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে সেদিন জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালেই আসেননি। এই যে ভ্রান্ত একটা সংবাদ সব গণমাধ্যমে ছড়িয়ে গেল, এটা কি অন্যায় নয়? এটা কি মিডিয়া ট্রায়াল নয়? এই অভিযোগ তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে দিয়েছেন। তিনি সুবিচার চেয়েছেন। এই মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ হওয়া উচিত।
বিচারাধীন বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া মিডিয়া ট্রায়ালের বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটরকে জানাতে বলেছেন।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার যেসব অভিযোগ এনেছেন, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) পক্ষে থেকে তার জবাব দেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম।
পরে মিজানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন বেশ কিছু অভিযোগ আনলেন যে তাঁর ভাইয়ের মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি কেক কেটেছেন। চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। আরও বেশ কিছু অভিযোগ তাঁরা যখন আনলেন, তখন তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। চিফ প্রসিকিউটরের কাছে যদি কোনো অভিযোগ যায়, এটা তদন্ত করার এখতিয়ার আছে। চিফ প্রসিকিউটর কোনো অভিযুক্তকে উল্লেখ করে বলেননি যে তিনি কেক কেটেছেন। তারপরও তিনি বলেছেন, যদি চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করে বলেই থাকেন, তাতেও কোনো অন্যায়, বেআইনি, আপত্তিজনক বা আদালত অবমাননাকর কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। কারণ, চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন অভিযোগ তদন্ত করছেন। তাঁরা কোনো মিডিয়া ট্রায়াল করছেন না বলেও উল্লেখ করেন মিজানুল।