
প্রশাসন অতিমাত্রায় দলীয়করণ থেকে বের হতে না পারলে তার ফল ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা জায়গাতেই সারাক্ষণ শুনতে হয়, যেদিন থেকে দায়িত্ব নিলাম, সেদিন থেকে নিয়ে শুরু করে মনে হয় চলে যাওয়ার দিন পর্যন্ত শুনব—এ তো ওদের লোক। ও তো ওদের লোক।’
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা এখন যেই আমলাতন্ত্র দিয়ে প্রশাসন চালাচ্ছি, অতিমাত্রায় দলীয়করণের কারণে এই আমলাতন্ত্র থেকে কিন্তু সৃজনশীলভাবে একজন ফাওজুল কবির খান কিংবা একজন আলী ইমাম মজুমদার কিংবা একজন আকবর আলি খান...আর বের হবে—এটা আর সম্ভব না।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমলাতন্ত্রকে অনেক গালিগালাজ করি, কিন্তু এটাও তো সত্য যে আমলাতন্ত্র মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের মতো একজনকে তৈরি করেছে। এটাও তো সত্য যে আমাদের আকবর আলি খানও একজন আমলা ছিলেন।’
অপ্রয়োজনীয় বিভাজন, ‘আমার–তোমার’ রাজনীতি ও অকারণ সন্দেহ সৃষ্টির সংস্কৃতির ওপর একধরনের ‘লকডাউন’ দরকার বলে মন্তব্য করেন সৈয়দা রিজওয়ানা। তবে তা করতে গিয়ে চিন্তা, সৃজনশীলতা ও প্রতিফলনের ওপর কোনো অবরোধ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ফাওজুল কবির খানের লেখার প্রশংসা করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে সরাসরি মোকাবিলা করা এবং সমাধানের পথে এগোনো—তাঁর লেখায় হতাশার বর্ণনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি ইতিবাচক বার্তা থাকে, যা সমাজ পরিবর্তনের আশা জাগায়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।