রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় দ্রুত দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত বাস সার্ভিস চালু করা হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগবিশেষজ্ঞ শামসুল হক।
নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে চান বলে জানান এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, পরিবহন একটা বড় সমস্যা। এটাকে সমাধান করতেই হবে। জনগণের জন্য জনবান্ধব একটা পরিবহনব্যবস্থা দিতে হবে। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেহেতু ১৬ বছর লন্ডনে ছিলেন, গণপরিবহনটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এ নিয়ে দুই ঘণ্টা কথা হয়েছে।
যোগাযোগবিশেষজ্ঞ শামসুল হক জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী খুব আহত হন, যখন জনগণের গণপরিবহনের অ্যাকসেসটা দেখেন খুব সীমিত। পার্টিকুলারলি (বিশেষত) ফিমেল (নারী) যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রাইভেসি (সুরক্ষা) ইস্যু হচ্ছে, তাঁরা ভালো কোনো গণপরিবহন পাচ্ছেন না, সেফটি-সিকিউরিটি (নিরাপত্তা) নেই। কী করা যায়, এই কী করার ভাবনা থেকেই উনি আমার সঙ্গে কথা বলেন। বিশেষ করে গণপরিবহনের সর্বোৎকৃষ্ট যে মাধ্যম মেট্রো, এর বাইরে আরও কিছু করা যায় কি না, যেটা উনি অলরেডি বলেছেন, মনোরেল যেহেতু সাশ্রয়ী মূল্যে খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।’
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘প্রাথমিকের মধ্যে থাকবে মহিলাদের জন্য আবেদন সৃষ্টিকারী এবং সিকিউর গণপরিবহন বাস, মহিলারাই চালাবেন এবং সবচেয়ে বড় আগ্রহটা দেখলাম, তিনি ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত) বাস দিয়েই আরম্ভ করতে চাচ্ছেন। উনিও চাচ্ছেন, ১৮০ দিনের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক গণপরিবহন প্রথমেই, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য, এইটা করার জন্য আগ্রহ তাঁর।’
বিভিন্ন পরিবহন সুবিধার কথা তুলে ধরে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘রাজধানীর পূর্ব দিকের বাসাবো, গোরান, মাদারটেক, পুরোনো টাউনে বিপুল জনগোষ্ঠী বাস করে। তারা কিন্তু ইভেন বাসও পায় না। মেট্রোগুলো সাধারণত প্রধান সড়কগুলোর ওপর দিয়ে গেছে। তাই এটাকে যদি মেট্রোর বাইরে অন্য কোনো সংস্করণে আনা যায়, মেট্রো তো একটা না, আমরা একটা চিনেছি মেট্রো, কিন্তু ভারী মেট্রো। এটার যেমন দরকার আছে, ব্রডব্যান্ড কানেকশনের পাশাপাশি, কিন্তু লাইট রেলও দরকার আছে, মনোরেল দরকার আছে, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি দরকার আছে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) দরকার আছে এবং অর্ডিনারি (সাধারণ যাত্রীবাহী) বাস—সবকিছুই দরকার।’
শামসুল হক বলেন, ঘিঞ্জি এলাকা, যেখানে মেট্রো যাবে না, মেট্রোকে সাপ্লিমেন্ট করার জন্য আর কী করা যায়, সেটার একটা স্টাডি করে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়া, যাতে ওনারা এই বছর কাজ আরম্ভ করতে পারেন।’
বাসগুলোকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনতে পাইলটিং করে, জোন করে আরম্ভ করার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কম বিনিয়োগে বেশি মানুষকে কাভারেজ দেওয়ার ব্যাপারে ওনার আগ্রহ। এসব বিষয় উল্লেখ করে বুয়েট অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘আমি যখন বললাম, এটার জন্য উন্নয়ন যন্ত্রণাটা একটু কম হয়। আপনি স্টিলের যদি পিয়ার বানান, এইটাকে আপনি প্রিফ্যাব্রিকেটেড (পূর্বনির্মিত) করে এখানে ইনস্টল (বসানো) করেন, তাহলে এই ঘিঞ্জি এলাকায় উন্নয়নের পেইনটাও (কষ্ট) কম হবে। পুরো ঢাকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় রেলভিত্তিক গণপরিবহনে যাওয়া যাবে। আর ঢাকাকে ডিসেন্ট্রালাইজ (বিকেন্দ্রীকরণ) করার ব্যাপারেও কিন্তু ওনার বড় একটা আগ্রহ দেখলাম রেলভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে। উনি বলছেন, “হোয়াই নট—চিটাগং থেকে এখানে এসে অফিস করব, কেন হবে না? আমরা দ্রুতগতির ট্রেন বানাতে যা যা করা লাগে, সেইভাবে করতে পারলে ঢাকার ওপর চাপটা আপনা-আপনি কমে যাবে।’”