সংবাদ সম্মেলনে নতুন বেতনকাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। আজ সোমবার বিকেলে তথ্য অধিদপ্তরে
সংবাদ সম্মেলনে নতুন বেতনকাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। আজ সোমবার বিকেলে তথ্য অধিদপ্তরে

মূল বেতন বাস্তবায়িত হবে তিন ধাপে, ভাতা দেওয়া হবে ২০২৮ সালে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে, তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরো বেতন স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

পেনশনভোগী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে, যা এ বছরের ১ জুলাই থেকে একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

কত অতিরিক্ত ব্যয়

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এই অর্থের সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।