
ঢাকার রাস্তায় রোদে রিকশা চালাতে চালাতে প্রায়ই মাথা ঘোরে আবদুল করিমের। বয়স ৫০ পেরিয়েছে। দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি রিকশা চালান। কিন্তু গরম এখন তাঁর শরীর আর নিতে চায় না, রিকশা একটু চালালেই শরীর পুড়ে যায় বলে মনে হয়।
গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কথা হয় আবদুল করিমের সঙ্গে। গায়ে জীর্ণ একটি পাঞ্জাবি, যার কিছু অংশে সেলাইয়ের দাগ। প্রখর রোদে ঘামে ভিজে সেই পাঞ্জাবি গায়ে লেপ্টে গেছে। আবদুল করিম বললেন, ‘দিন যত যাইতেছে, কষ্ট বাড়তেছে। বয়স হইছে তো। গরম আর সহ্য হয় না।’
তবু থামার সুযোগ নেই। রিকশা না চালালে আয় নেই। আর সেই বাধ্যতাই আবদুল করিমের মতো মানুষকে প্রতিদিন দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে ভয়ংকর তাপঝুঁকির মুখে। এতে যে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।
নতুন এক গবেষণা বলছে, ঢাকার রিকশাচালকেরা ইতিমধ্যে এমন মাত্রার তাপে কাজ করছেন, যা তাঁদের শরীরের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
গবেষণার জন্য ঢাকার ১০০ জন পুরুষ রিকশাচালকের কাছ থেকে বাস্তব সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের হাতে গবেষণা–উপযোগী সেন্সরযুক্ত ‘ওয়্যারেবল’ ডিভাইস পরানো হয়েছিল। এসব ডিভাইস শরীরের তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন, ঘামের প্রতিক্রিয়া ও নড়াচড়ার তথ্য সংগ্রহ করে।
গবেষণাটির শিরোনাম—ফোরকাস্টিং অকুপেশনাল সারভাইভেবিলিটি অব রিকশাপুলারস ইন আ চেঞ্জিং ক্লাইমেট উইদ ওয়্যারেবল ডেটা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব দ্য এসিএম অন ইন্টারঅ্যাকটিভ, মোবাইল, ওয়্যারেবল অ্যান্ড ইউবিকুইটাস টেকনোলজিস’-এ এটি প্রকাশিত হয়।
গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা।
বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও শ্রমজীবী মানুষের শরীরে তার বাস্তব প্রভাব নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা এখনো খুব সীমিত। বিশেষ করে ওয়্যারেবল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব সময়ের শারীরবৃত্তীয় তথ্য সংগ্রহের উদাহরণ খুব কম।
এই গবেষণা দেখাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু ভবিষ্যতের পরিবেশগত সংকট নয়, এটি নগরের শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজ, স্বাস্থ্য ও আয়রোজগারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনা, কর্মঘণ্টা, বিশ্রামব্যবস্থা ও তাপ–সহনশীল অবকাঠামো নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক মাসফিকুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহত্তর অর্থে, আমরা মানুষের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতার একটি ‘ডিজিটাল টুইন’ বা ভার্চ্যুয়াল প্রতিরূপ তৈরি করতে চাই। রিকশাচালকদের নিয়ে এই গবেষণা সেই বৃহৎ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ অবস্থায় মানুষের ত্বকের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় এটি ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
গবেষণার জন্য ঢাকার ১০০ জন পুরুষ রিকশাচালকের কাছ থেকে বাস্তব সময়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের হাতে গবেষণা–উপযোগী সেন্সরযুক্ত ‘ওয়্যারেবল’ ডিভাইস পরানো হয়েছিল। এসব ডিভাইস শরীরের তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন, ঘামের প্রতিক্রিয়া ও নড়াচড়ার তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও যাত্রাপথের তথ্যও নেওয়া হয়।
মাসফিকুর রহমান বলেন, গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকার রিকশাচালকদের শরীরে কয়েক ধরনের যন্ত্র বসানো হয়—যেমন একটি পরিধানযোগ্য সেন্সর (এমব্রেস প্লাস রিস্টব্যান্ড), তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মাপার ডেটা লগার এবং একটি জিপিএস ট্র্যাকার। প্রতিটি পর্যবেক্ষণ সেশন একটি সহজ ধাপ অনুসরণ করেছে: বিশ্রাম, রিকশা চালানো, আবার বিশ্রাম।
গবেষকেরা আরও ১২ জন রিকশাচালকের সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে উঠে আসে বাড়তে থাকা গরম, কাজের কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা। গবেষণায় দেখা যায়, তাঁরা নিজেদের বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং ভবিষ্যতে এই পেশায় টিকে থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
রিকশাচালকেরা পানিস্বল্পতায় ভোগেন, বিশেষ করে দুপুরের রোদে। কোথাও পানি পান করবেন বা টয়লেট সারবেন, সেই ব্যবস্থাই নেই ঢাকায়। কিন্তু সিটি করপোরেশন এসব রিকশাচালকদের কাছে থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি নেয়।সুলতান উদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক, বিলস
গবেষণায় অংশ নেওয়া রিকশাচালকদের গড় বয়স ছিল ৪৮ বছর। তাঁরা দিনে গড়ে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন। দিনে গড় আয় প্রায় ৬ মার্কিন ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ৭৩৭ টাকা)। প্রতিটি রিকশাযাত্রার গড় সময় ছিল ১৮ দশমিক ৯ মিনিট।
গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশেরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই বা পঞ্চম শ্রেণির নিচে। ৫৬ জনের ধূমপানের অভ্যাস ছিল। ১২ জন হৃদরোগ–সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেছেন। ৫১ জন শরীরের বিভিন্ন ব্যথার কথা জানিয়েছেন। হাত, পা, হাঁটু ও মাথাব্যথা ছিল সাধারণ সমস্যা।
গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত—তিন মৌসুমেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গ্রীষ্মে অংশ নেন ৫১ জন, বর্ষায় ২৮ জন এবং শীতে ২১ জন।
তিন বছরে ১০০ জন রিকশাচালকের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বেইজিয়ান নেটওয়ার্কভিত্তিক একটি পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলটি একজন রিকশাচালকের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, তাঁর কাজের ধরন এবং তৎকালীন আবহাওয়ার ভিত্তিতে অনুমান করতে পারে, তাঁর শরীর কতটা উত্তপ্ত হচ্ছে এবং কতটা শারীরিক চাপের মধ্যে পড়ছে। এরপর ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস এই মডেলে যুক্ত করে গবেষকেরা জানতে চেয়েছেন, ঢাকার তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে, রিকশাচালকদের পক্ষে কি বাইরে কাজ করে টিকে থাকা সম্ভব হবে?
গবেষকেরা মূলত চারটি শারীরবৃত্তীয় সূচক বিশ্লেষণ করেছেন—ত্বকের তাপমাত্রা, হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ বা ‘রিলেটিভ কার্ডিয়াক কস্ট’, ঘামের প্রতিক্রিয়া এবং ত্বকের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা। এসব সূচক দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে রিকশাচালকের শরীর কতটা চাপের মধ্যে পড়ে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ অবস্থায় মানুষের ত্বকের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় এটি ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়লে রিকশাচালকদের শরীরের তাপমাত্রা, হৃদ্যন্ত্রের চাপ এবং ঘামের মাত্রা বাড়ে। বেশি গতিতে বা বেশি সময় রিকশা চালালে এই চাপ আরও তীব্র হয়। বয়স্ক রিকশাচালকদের ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অর্থাৎ একই কাজ করতে তাঁদের শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
গবেষকেরা দেখেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অংশ নেওয়া রিকশাচালকদের ৩২ শতাংশ ইতিমধ্যে এই উচ্চ তাপঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বর্তমানে একজন রিকশাচালক গড়ে ১১ মিনিট এমন মাত্রার তাপে থাকছেন, যা একটি যাত্রার প্রায় ৬৪ শতাংশ সময়।
গবেষণায় ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ বা ডব্লিউবিজিটি নামের একটি আন্তর্জাতিক সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। এই সূচক তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সূর্যের তাপের সম্মিলিত প্রভাব বোঝায়। গবেষণায় ডব্লিউবিজিটি ৩১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটিকে উচ্চ তাপঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়েছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অংশ নেওয়া রিকশাচালকদের ৩২ শতাংশ ইতিমধ্যে এই উচ্চ তাপঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। বর্তমানে একজন রিকশাচালক গড়ে ১১ মিনিট এমন মাত্রার তাপে থাকছেন, যা একটি যাত্রার প্রায় ৬৪ শতাংশ সময়।
গবেষকদের মতে, এটি শুধু ‘গরম লাগা’র বিষয় নয়, এটি পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির স্পষ্ট সংকেত। কারণ, রিকশাচালকেরা খোলা রাস্তায়, সরাসরি রোদে এবং যানজটের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক পরিশ্রম করেন। তাঁদের অনেকেরই আগে থেকে শরীর ব্যথা, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বা ধূমপানের অভ্যাস আছে। ফলে তীব্র তাপ তাঁদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় কার্বন নির্গমন পরিস্থিতি ধরে ২০২৬ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরপর সেই জলবায়ু পূর্বাভাসের সঙ্গে রিকশাচালকদের শারীরবৃত্তীয় তথ্য মিলিয়ে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি অনুমান করা হয়।
গবেষকদের হিসাব বলছে, ২০২৬–২০৩০ সালের মধ্যেই উচ্চ তাপঝুঁকিতে থাকা রিকশাচালকের হার বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর শতাব্দীর শেষ দিকে, অর্থাৎ ২০৯১–২১০০ সালে তা ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির বেশি থাকার সময়ও বাড়বে। বর্তমানে যা গড়ে ১১ মিনিট, তা ২০২৬–২০৩০ সময়ে বেড়ে ১৩ মিনিট হতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে কম কার্বন নিঃসরণের পরিস্থিতিতেও শতাব্দীর শেষে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
গবেষকদের হিসাব বলছে, ২০২৬–২০৩০ সালের মধ্যেই উচ্চ তাপঝুঁকিতে থাকা রিকশাচালকের হার বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর শতাব্দীর শেষ দিকে, অর্থাৎ ২০৯১–২১০০ সালে তা ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।
গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলেনি, তুলেছে পেশাগত টিকে থাকার প্রশ্নও।
গবেষকেরা একে বলছেন ‘অকুপেশনাল সারভাইভেবিলিটি’—অর্থাৎ ভবিষ্যতের জলবায়ুতে কোনো পেশা নিরাপদ ও সহনীয়ভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না।
রিকশাচালকেরা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন। তাঁদের আয় দৈনিক, বিশ্রামের সুযোগ সীমিত, স্বাস্থ্যসেবার নাগালও কম। ফলে শহরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা আরও বাড়লে শুধু অসুস্থতার ঝুঁকি নয়, কাজের সক্ষমতা, আয় এবং জীবিকার ওপরও চাপ বাড়বে।
এই গবেষণা দেখাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু ভবিষ্যতের পরিবেশগত সংকট নয়, এটি নগরের শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজ, স্বাস্থ্য ও আয়–রোজগারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে কর্মঘণ্টা, বিশ্রামব্যবস্থা, ছায়া, পানির ব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা এবং তাপ–সহনশীল অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও তাই সামনে আসছে।
রিকশা ঢাকার বা দেশের যেকোনো শহরের নাগরিক জীবনের অংশ। কিন্তু নগরীতে কত রিকশাচালক আছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার একমাত্র কর্তৃপক্ষ। ১৯৮৬ সালে সিটি করপোরেশন সর্বশেষ ৭৯ হাজার ৫৫৪ রিকশার লাইসেন্স দিয়েছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এরপর প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ ও ২৩ সালে প্যাডেলচালিত ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০টি রিকশার নিবন্ধন দিয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) করা ‘অর্গানাইজিং দ্য ইনফরমাল ইকোনমি ওয়ার্কার্স: আ স্টাডি ইন রিকশাপুলারস ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা শহরে আনুমানিক ১১ লাখ রিকশা আছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও খন্দকার আবদুস সালাম।
তবে এখন রিকশা এবং এর চালকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রিকশাচালকেরা পানিস্বল্পতায় ভোগেন, বিশেষ করে দুপুরের রোদে। কোথাও পানি পান করবেন বা টয়লেট সারবেন, সেই ব্যবস্থাই নেই ঢাকায়। কিন্তু সিটি করপোরেশন এসব রিকশাচালকদের কাছে থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি নেয়।
বছর তিনেক আগে করা এক গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে সুলতান উদ্দিন খান বলেন, শুধু কর্মপরিবেশ নয়, রিকশাচালকেরা যেখানে থাকেন সেখানেও তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। সীমিত আকারে রিকশাচালকদের পানি দেওয়ার ব্যবস্থা তাঁরা করেছিলেন। কিন্তু সেটা তাঁরা বেশিদিন চালাতে পারেননি।