
‘এই মুহূর্তে সাভারে জঙ্গি হামলা হচ্ছে। মানুষ জীবন বাঁচাতে এদিক-সেদিক দৌড়াচ্ছে। আমার বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো জঙ্গিদের হাতে চলে গেছে’—এমন ক্যাপশনে এক মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক
ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার মধ্যে নারী-পুরুষদের নিরাপদ স্থানে ছুটতে দেখা যায়। ধোঁয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টে কাশছেন। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ পাওয়া যায়। মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে স্বজনদের খুঁজতে দেখা যায় কয়েকজনকে। কেউ স্বজনকে খুঁজে না পেয়ে বিলাপ করছেন, আবার কেউ স্বজনকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকেও বলতে শোনা যায়, ধোঁয়ার কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (সিসিইউ) ভেতরে একজন রোগী আটকে আছেন।
সোমবার মধ্যরাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ‘সাভারে জঙ্গি হামলা’ দাবিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, সাভারে জঙ্গি হামলার পর মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি করছে।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি সাভারের কোনো ঘটনার নয়, গত ১১ জুন খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারণ করা ভিডিও।
ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চে ১২ জুন খুলনা সিটি নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এটি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার সময় ধারণ করা হয়েছিল।
লিংক: এখানে
পেজটিতে ১১ জুন ও ১২ জুন খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ১৫টি কনটেন্ট পোস্ট করা হয়, যার মধ্যে ভিডিও–ছবি রয়েছে।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও ১১ জুন খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরের ময়লাপোতা মোড় এলাকায় অবস্থিত ১৭ তলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অর্থাৎ ভিডিওটি পুরোনো ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার।
এ ছাড়া গত রাতে সাভারে কোনো জঙ্গি হামলার খবর কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজনের পোস্ট দেখে প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি থানা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাননি।
এদিকে একই রাতে ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘সাভারে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ ও জঙ্গি হামলায় অনেক মানুষ হতাহত। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।’
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক
ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে একটি স্থানে আগুন জ্বলছে এবং আগুনের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটছে। আশপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে ঘটনাটি দেখছেন।
যাচাই করে দেখা যায়, এটি ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটসংলগ্ন একটি স মিলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক
ভিডিওটি সময় টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, খিলগাঁওয়ের ওই অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দৃশ্যই ভিডিওটিতে দেখা যায়।
লিংক: এখানে
এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি খিলগাঁওয়ের একটি স মিলে আগুন লাগে, যা পরে পাশের আরেকটি স মিল ও প্রায় ২০টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক
সুতরাং সাভারে জঙ্গি হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওই পুরোনো এবং ভিন্ন ঘটনার।