আদালতে তাহসীন ইসলাম। ১০ জুলাই
আদালতে তাহসীন ইসলাম। ১০ জুলাই

উগ্রবাদে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার তরুণ তাহসীন কারাগারে

উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে (ফাতাহ কমব্যাটে) জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তরুণ তাহসীন ইসলামকে (১৯) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এই আসামিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়। বিকেল সোয়া চারটায় শুনানি শুরু হয়। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ফাতাহ কমব্যাট সংগঠনে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরে আদালত আসামির কাছে কিছু বলার আছে কি না, জানতে চান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমার আর কিছু বলার নেই।’ বিচারক জানতে চান, ‘আপনার কোনো আইনজীবী আছে কি?’ তিনি বলেন, ‘না।’

শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায় ,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন আলোচিত ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোরে সংগঠনটির কোনো সক্রিয় সদস্য বা সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বলেও জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ফাতাহ কমব্যাটের বিষয় জড়িতদের সম্পর্কে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাহসীন ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। অভিযানের সময় তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি চাপাতি ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম বলেন, মূলত ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে তাহসীন ইসলামের নামে মামলা থাকায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলাও আছে। তিনি এফসিএসর সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাঁকে রাতেই সিটিটিসি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।