২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ড ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব মামলার এজাহার বিস্তারিত পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন—এ বিষয়ে আমি বাংলাদেশের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত। যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, শুধু তাঁদের নামই মামলায় থাকা উচিত। বাকিদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া দরকার।
একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করে, এমন প্রমাণের ভিত্তিতেই কাউকে মামলায় অভিযুক্ত করা উচিত। ছবি, ভিডিও, অডিও, মুঠোফোনের কল রেকর্ড কিংবা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য উপাদান প্রমাণ হিসেবে থাকতে হবে, যা অভিযোগকে যথেষ্টভাবে সমর্থন করে।
যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, শুধু তাঁদের নামই মামলায় থাকা উচিত। বাকিদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া দরকার।
একই সঙ্গে এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুধু স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে অসংগতি এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় স্বাধীন ইউনিট গঠন করা উচিত। এমন একটি বডি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তের সঙ্গেও সমন্বয় করতে পারে, যাতে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা যায় এবং পুনরাবৃত্তি বা বিরোধ এড়ানো যায়।
উৎসাহজনক দিক হলো, বাংলাদেশের নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি অ্যাড্রেস (নজর দেওয়া এবং পদক্ষেপ নেওয়া) করতে শুরু করেছেন। তবে বিএনপি সরকারকে এ বিষয়ে এগোতে হবে সাবধানে এবং পরিকল্পিতভাবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর যথাযথ জবাবদিহি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই জবাবদিহির প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বচ্ছ, সুনিপুণ এবং প্রমাণভিত্তিক। প্রক্রিয়াটি এমন হওয়া দরকার, যেখানে তা যেমন দোষীদের রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা হবে না, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিদের কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়া হয়রানি বা আটক রাখার সুযোগও দেবে না।
উৎসাহজনক দিক হলো, বাংলাদেশের নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি অ্যাড্রেস (নজর দেওয়া এবং পদক্ষেপ নেওয়া) করতে শুরু করেছেন। তবে বিএনপি সরকারকে এ বিষয়ে এগোতে হবে সাবধানে এবং পরিকল্পিতভাবে।
জুলাই মামলার ক্ষেত্রে গভীর ত্রুটিপূর্ণ এবং বিশৃঙ্খল একটি অবস্থা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বিএনপি সরকার। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সুচিন্তিত সংস্কার, যাতে নির্দোষ ব্যক্তিরা আর অন্যায় তদন্ত বা আটকের ভুক্তভোগী না হন এবং যাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে যথাযথভাবে তদন্ত এবং বিচার করা যায়।