আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জবানবন্দিতে সাক্ষী

গণ–অভ্যুত্থানের সময় চানখাঁরপুলে পুলিশের পোশাকে লোকেরা হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল

গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের পোশাক পরিহিত লোকদের হিন্দি ভাষায় কথা বলতে শুনেছেন বলে জবানবন্দি দিয়েছেন সাক্ষী শহীদ আহম্মেদ।

গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ শহীদ আহম্মেদ এই জবানবন্দি দেন। গত বছরের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে গুলিতে শহীদ ছয়জনের একজন মো. ইয়াকুবের চাচা হলেন শহীদ আহম্মেদ।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ এই জবানবন্দি দেন শহীদ আহম্মেদ। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় আজ তিন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ছয় সাক্ষী জবানবন্দি দিলেন।

আজ জবানবন্দিতে সাক্ষী শহীদ আহম্মেদ বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি, তাঁর ছেলে সালমান, তাঁর ভাতিজা মো. ইয়াকুব ও তাঁর এলাকার রাসেল, সুমন, সোহেলসহ আরও অনেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাঁনখারপুল এলাকায় পৌঁছান। সেখানে হাজার হাজার লোক চারদিক থেকে জড়ো হচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখেন, চানখাঁরপুল মোড়ের উল্টো পাশে অনেক পুলিশ, ছাপা পোশাকধারী পুলিশ ছিল। পুলিশের পোশাক পরিহিত লোকদেরকে হিন্দি ভাষায় কথা বলতে শোনেন তিনি। পুলিশ তাঁদের বাধা দিচ্ছিল। তাঁদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

জবানবন্দিতে শহীদ আহম্মেদ বলেন, আবার তাঁরা সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করে। তাঁর পাশের একজনের পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে তিনি সরাচ্ছিলেন। তখন তাঁকে একজন বলেন, তাঁর ভাতিজা ইয়াকুবের গায়ে গুলি লেগেছে। তিনি ওই ছেলেকে আরেকজনের কাছে রেখে ভাতিজার কাছে যান। আরও দুজনসহ ভাতিজাকে অটোরিকশায় করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে ইয়াকুব মারা গেছে।

এ মামলায় আট আসামি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক। আর অপর আসামি শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।