
জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আবদুল কাদের খানের পরিকল্পনায় ২০১৬ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করা হয়। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে মঞ্জুরুলকে হত্যায় সফল হয় দুর্বৃত্তরা। হত্যাকারীরা অস্ত্র চালানো ও হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পালানোর প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।
আজ সোমবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মঞ্জুরুলকে নিজ বাড়িতে একা পেয়ে গুলি করে হত্যার করে পালিয়ে যায় শাহীন, রানা ও মেহেদী। তাঁরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আবদুল কাদের খান, চন্দনসহ সাত আসমির সবাইকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। তবে চন্দন কুমার রায় পলাতক ছিলেন। গতকাল রোববার রাত নয়টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অন্যরা হলেন কাদেরের একান্ত সহকারী মো. শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, গৃহকর্মী মেহেদি হাসান, দূর সম্পর্কের ভাগনে ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক শাহীন মিয়া, সাবেক পোশাকশ্রমিক আনোয়ারুল ইসলাম রানা। মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি কসাই সুবল চন্দ্র রায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির আবদুল কাদের খান। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। পরে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাদেরের ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে জয় পান মঞ্জুরুল। সে সময় কাদেরের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই মঞ্জুরুল ইসলাম হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে চন্দন র্যাবকে জানিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সহযোগী মেহেদী, শাহীন, রানা, শামসুজ্জোহা ও হান্নান অস্ত্র চালানো ও হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পালানোর প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।
চন্দন সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ২০১৬ সালের প্রথম দিকে তাঁকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেন। র্যাবের কর্মকর্তা আল মঈন বলেন, একাধিক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে চন্দন মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। সহযোগিতা না করায় তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন চন্দন।
র্যাব জানায়, ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে মঞ্জুরুল ইসলামের অনুসারীদের সঙ্গে চন্দনের মারামারি হলে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। ওই সময় মঞ্জুরুল ইসলামের প্ররোচনায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে চন্দন ১৯ দিন কারাভোগ করেন।
চন্দনের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ছিল জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য কাদেরের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুজ্জোহার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছিল চন্দনের। পরে চন্দন ও কাদের খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে মঞ্জুরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চন্দনের ভগ্নিপতি সুবল রায় মঞ্জুরুল ইসলামের বাড়ির দারোয়ান হিসেবে কাজ করার সুবাদে মঞ্জুরুলের বাড়িতে যাওয়া-আসার বিষয়ে তথ্য জানা সহজ ছিল চন্দনের জন্য। মঞ্জুরুলের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে আবদুল কাদের খান ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের তথ্য দিতেন চন্দন।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর চন্দন জানিয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার পথে লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তিনি গাবতলী পৌঁছে ফিরে গেলে সেই পরিকল্পনায় খুনিরা সফল হতে পারেনি।