৬০ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনা মূল্যে ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে গাড়িবুক
৬০ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনা মূল্যে ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে গাড়িবুক

আবারও খুশি ছড়াল ‘গাড়িবুক’-এর ‘খুশির টিকিট’

ঢাকার রিকশাচালক করিম মিয়া। বয়স ৪০। গ্রামের বাড়ি রংপুর। সারা বছরই তিনি অপেক্ষা করেন ঈদের জন্য। কারণ, এই সময়েই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতরে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল করিম মিয়ারও। কিন্তু রমজান মাসে পরিবারের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং যাতায়াতের ভাড়া বেশি হওয়ায় নিজের আয়ের প্রায় সব টাকাই তিনি বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাই অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই ঈদে আর বাড়ি যাবেন না।

করিম মিয়ার মতো এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা টাকার অভাবে ঈদে বাড়ি ফিরতে পারেন না। আবার অনেকেই শেষ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। কেউ ট্রেনের ছাদে উঠে, কেউ ট্রাকের পেছনে চড়ে, আবার কেউ বাসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। এই মানুষগুলোকেই সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে এবার ঈদে আবারও ‘খুশির টিকিট’ ক্যাম্পেইন নিয়ে এসেছে গাড়িবুক।

গত বছর প্রথমবার এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি কোস্টার বাসে ৩০ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বাড়ি পাঠিয়েছিল গাড়িবুক। এবার উদ্যোগটিকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে নেত্রকোনা এবং ঢাকা থেকে সৈয়দপুর—এই দুই রুটে দুটি এসি কোস্টার বাসে করে গতবারের থেকে দ্বিগুণ, অর্থাৎ মোট ৬০ জন মানুষকে তাঁদের আপনজনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে গাড়িবুকের খুশির টিকিট। এমনকি যাত্রাপথে ইফতারের জন্যও সবাইকে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় খাবার পানি ও হালকা খাবার।

‘খুশির টিকিট’ সম্পর্কে গাড়িবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সৈয়দ রাজিব হোসাইন বলেন, ‘ঈদের সময় বাড়ি ফেরাটা আমাদের সবার জন্যই খুব আবেগের একটি বিষয়। কিন্তু এ সময়ে দৈনন্দিন খরচ একটু বেড়ে যায় এবং বাড়ি যাওয়ার ভাড়াও অনেক বেড়ে যায়। তাই আর্থিক কারণে অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেন না। দেখা যায়, বাড়িতে সব টাকা পাঠিয়ে দিয়ে তাঁরা ঢাকায় একা ঈদ করেন। আবার অনেকেই শেষ মুহূর্তে ট্রাকের পেছনে ঝুলে বা ট্রেনের ছাদে উঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাড়ি ফেরেন। বিষয়টি আমাদের খুব নাড়া দেয়।’

সৈয়দ রাজিব হোসাইন আরও বলেন, ‘সেই ভাবনা থেকেই গত কোরবানির ঈদে আমরা ‘‘খুশির টিকিট’’ ক্যাম্পেইন শুরু করি। তারই ধারাবাহিকতায় এই ঈদে আরও বড় করে গতবারের থেকে দ্বিগুণ মানুষকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও নিরাপদে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা মনে করি, ধনী বা গরিব—সবারই আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আনন্দ সমান। এই আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত না হোক।’

গাড়িবুক বিশ্বাস করে সবার জন্যই ভ্রমণ হওয়া আরও সহজ ও স্বাধীন। এই চিন্তা থেকেই গাড়িবুক ড্রাইভারদের কাছ থেকে কোনো কমিশন নেয় না। ভাড়ার পুরো টাকাই থাকে ড্রাইভারের পকেটে। এতে প্যাসেঞ্জারের ভাড়া আসে তুলনামূলক কম এবং ড্রাইভারদের আয়ও হয়ও বেশি। বেশি আয়ের কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গাড়িবুক মূলত একটি অ্যাপভিত্তিক ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম। গাড়িবুক অ্যাপের মাধ্যমে শহরের ভেতরে কিংবা বাইরে যেকোনো প্রয়োজনে সেডান, নোয়াহ, হাইএস বা কোস্টার বাস খুব সহজেই বুক করা যায়। এখানে প্যাসেঞ্জাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি, ড্রাইভার ও ভাড়া সিলেক্ট করতে পারেন।

ইন্টারসিটি ও রাইডশেয়ারের পাশাপাশি গাড়িবুকে রয়েছে এয়ারপোর্ট পিকআপ ও ড্রপ অফ, ঘণ্টা ভিত্তিতে গাড়ি বুক করার সুবিধা এবং বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, হ্যারিয়ার ও অডির মতো বিলাসবহুল গাড়ি বুক করার সুবিধাও।