আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হানিফের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিলেন দুই শহীদের স্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় দুজন শহীদের স্ত্রী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন শহীদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. লাবনী আক্তার এবং শহীদ সুরুজ আলীর স্ত্রী মোছা. ফাহিমা খাতুন। দুজন সাক্ষীই কুষ্টিয়া সদর থানার।

আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তাঁরা এই জবানবন্দি দেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

হানিফ ছাড়াও এ মামলার অপর আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। এ মামলার সব আসামি পলাতক।

জবানবন্দিতে দুজন সাক্ষীই নিজেদের স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে বলেছেন, এসব হত্যাকাণ্ডে মামলার চার আসামি দায়ী।

লাবনী আক্তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি একজন গৃহিণী। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর স্বামী শহীদ আশরাফুল ইসলাম। লাবনী আক্তার আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় আন্দোলনে যোগ দিতে আশরাফুল বাড়ি থেকে বের হন। তিনি ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তাঁর স্বামীকে ফোন দেন। তখন তাঁর স্বামী জানান, তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে আছেন এবং সেখানে খুব গোলাগুলি হচ্ছে। বাড়ি ফেরার মতো পরিবেশ নেই। বেলা দেড়টার দিকে পাশের বাড়ির এক ছেলে এসে তাঁকে জানায়, তাঁর স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বেলা তিনটার দিকে তাঁর স্বামী কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা যান।

জবানবন্দিতে ফাহিমা খাতুন বলেন, শহীদ সুরুজ আলী তাঁর স্বামী। তাঁর স্বামীর জুয়েলারির দোকান ছিল। তিনি গৃহিণী। তাঁর দুই মেয়ে এবং এক ছেলে।

ফাহিমা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁর স্বামী আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন তিনটার দিকে সুরুজ আলী ফোন দিয়ে তাঁকে জানান, তিনি বার্মিজ গলির সামনে আন্দোলনে আছেন। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তাঁর দেবর তাঁকে ফোন করে বলেন, তাঁর স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।