
নদীপথে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
সাব্বির আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় সন্দ্বীপ থেকে ‘চার তাওফিল’ নামের একটি বাল্কহেড চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করে। বাল্কহেডটি গুপ্তছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ একদল সশস্ত্র ডাকাত আক্রমণ চালায়। তারা বাল্কহেডে থাকা চারজনকে জিম্মি করে সেটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বাল্কহেডে থাকা সুকানির (চালক) মুঠোফোন ব্যবহার করে ডাকাতেরা মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বাল্কহেডের মালিকপক্ষ কোস্টগার্ডের জরুরি নম্বরে ফোন করে সহায়তা চায়।
সাব্বির আলম আরও বলেন, খবর পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে কোস্টগার্ডের সন্দ্বীপ স্টেশনের মাধ্যমে ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জিম্মি থাকা চারজনসহ বাল্কহেডটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সমুদ্রসৈকত এলাকায় এনে মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ‘এমভি তায়েবা’ জাহাজের মাস্টার মো. কাশেম কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বরে কল করে জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার এলাকায় কিছু লোক জাহাজের ক্রুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ ওই এলাকায় নোঙর করে। এসব জাহাজের কাছ থেকে প্রতিদিন পাঁচ–সাত লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
এ খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ডের গজারিয়া স্টেশনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজেরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল চলছে।
কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, দেশব্যাপী নদীপথ, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি বাড়িয়েছে কোস্টগার্ড। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।