
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জেলে থাকার কথা থাকলেও তাঁদের ‘ঔদ্ধত্যে’ সারা বিশ্ব জ্বলছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। জাতিসংঘ কী কারণে আছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকারই করে না। জাতিসংঘের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এর মহাসচিবসহ সবার পদত্যাগ করা উচিত।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। ‘ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন এবং দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী দস্যুতার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশের আয়োজন করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ।
সমাবেশে অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দখলকার্য বা দখলযজ্ঞ একটা ধারাবাহিকতা। ব্রিটিশ, ফরাসি, পর্তুগিজরা কীভাবে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করেছিল, তা আমরা জানি। সেই ঔপনিবেশিক শাসনেরই ধারাবাহিকতা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের যে দখল, ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে তা একটা ভয়ংকর ও অবিশ্বাস্য মাত্রা লাভ করেছে।’
জার্মানির বামপন্থী নেতা রোজা লুক্সেমবার্গের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ যত টিকে থাকবে, তত বেশি এটা ধ্বংসমুখী হবে, তত বেশি এর মধ্যে বর্বরতা তৈরি হবে। বর্বরতা কত তৈরি হয়, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সেটা দেখাচ্ছে।...যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তিনি যা খুশি, তা-ই করে বেড়াচ্ছেন। ইরান আক্রমণে কংগ্রেসের অনুমোদন নেই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেরই লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় গিয়ে বলছেন, আমরা রাজা-বাদশা চাই না। ট্রাম্প ব্যবহার করছেন সেই রাজা-বাদশার মতো।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে আসা বা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় তার ওপর একের পর এক আক্রমণ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলছে যে আজ রাতের মধ্যে একটা সভ্যতা শেষ করে দেবে। হাসিমুখে বলছে যে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেবে। এই যে ট্রাম্প যা খুশি, তা-ই করছেন, যে বিশ্বে তিনি এসব কথা বলতে পারছেন, সেই বিশ্বে ব্যবস্থাটা কী? সেখানে প্রতিষ্ঠান কোথায়, জাতিসংঘ কোথায়? জাতিসংঘের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এর মহাসচিবসহ সবার পদত্যাগ করা উচিত। জাতিসংঘ কী কারণে আছে?’
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকারই করে না এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অকার্যকর হয়ে আছে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা আছে। ট্রাম্পের এখন জেলে থাকার কথা। নেতানিয়াহুরও জেলে থাকার কথা। যাদের জেলে থাকার কথা, তারা এ রকম ঔদ্ধত্য নিয়ে সারা বিশ্বকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
ভাসানী পরিষদের নেতা হারুন অর রশিদ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। পরিষদের আরেক নেতা জুলফিকার আলী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।